উৎসবে উত্তাল আর্জেন্টিনার রাজধানী © সংগৃহীত
ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির হাত ধরে শিরোপার খরা কাটল লাতিন দেশটির। দীর্ঘ ৩৬ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তুলল আর্জেন্টিনা। সেই ১৯৮৬ সালে ম্যারাডানো দিয়েছিলেন বিশ্বকাপ উপহার। এরপর ২০২২ সালে শিরোপা উপহার দিলেন আরেক মহাতারকা লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের পরই হাজার হাজার মানুষ আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সের রাস্তায় নেমে আসে। তাদের উল্লাস-উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধভাঙা।
টানটান উত্তেজনায় বিশ্বকাপের ইতিহাসের সেরা ফাইনাল। পুরো ম্যাচ জুড়ে বার বার বদলাল খেলার রং। প্রথমার্ধে মেসি ও ডি-মারিয়ার গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে জোড়া গোল করলেন কিলিয়ান এমবাপে। অতিরিক্ত সময়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করলেন মেসি। খেলা শেষ হওয়ার তিন মিনিট আগে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলেন এমবাপে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে গড়াল বিশ্বকাপ।
টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল আর্জেন্টিনা। এর মাধ্যমে ১৯৭৮ এবং ১৯৮৬ সালের পর তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ঘরে তুলল আর্জেন্টিনা।
আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানায়, প্রায় ৮৮ হাজার দর্শক-ভক্তদের সামনে কাতারে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে পরাজিত করে তৃতীয় বিশ্বকাপ ঘরে তোলার পর রাজধানী বুয়েনস আয়ার্সের রাস্তায় নেমে আসেন হাজার হাজার আর্জেন্টাইন নাগরিক। এ সময় তারা উল্লাসে মেতে ওঠেন।
বিশ্বকাপ জয়ের পর পরিবারের সাথে জয় উদযাপন করতে বুয়েনস আয়ার্সের বাড়ির সামনের রাস্তায় বেরিয়ে আসে ১৩ বছর বয়সি ফুটবল ভক্ত সান্তিয়াগো। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় কিশোর এই ফুটবল ভক্তের অনুভূতি, “আমি এটা বিশ্বাস করতে পারছি না! এটা কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা এটা পেরেছি, মেসিকে ধন্যবাদ।”

রয়টার্স বলছে, পতাকা, টুপি এবং দেশের আইকনিক নীল-সাদা জার্সি নিয়ে আর্জেন্টাইনরা ফাইনালে জয়ের কয়েক মিনিটের মধ্যে বুয়েনস আয়ার্সের কেন্দ্রস্থল এবং অন্যান্য আইকনিক স্পট দখল করে নেয়। একই সময়ে দেশজুড়ে আরও অনেক স্থানে আনন্দ, উল্লাস ও উদযাপন ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: বড় ম্যাচের নেপথ্য নায়ক ডি মারিয়া
বুয়েনস আয়ার্সের শহরতলির ৪৬ বছর বয়সি দিয়েগো অ্যাবুর্গেলি বলেন, “এটি একটি অবিশ্বাস্য খেলা ছিল। গত কয়েক দশকের মধ্যে আর্জেন্টিনার এই দলটি প্রথমবারের মতো মানুষকে তাদের প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছে।”
২০১৪ সালে জার্মানির বিপক্ষে টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরে যাওয়া লাতিন আমেরিকার এই দলটি ১৯৮৬ সাল থেকে গতকালের আগপর্যন্ত বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। তবে দলের উত্থান আর্জেন্টিনাকে ব্যাপক উৎসাহিত ও উল্লসিত করেছে, যদিও এই দেশটি উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত, যা দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ জনসংখ্যাকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

রয়টার্স বলছে, বিশ্বকাপ জয় আর্জেন্টাইনদের মধ্যে কিংবদন্তি হিসেবে লিওনেল মেসির মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। রবিবারের এই ম্যাচটি আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপে তার শেষ খেলা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স