৭ বছর পর ভারতের বিপক্ষে আরেকটি সিরিজ জয় টাইগারদের

০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:৪৩ PM , আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৫, ০২:৪৯ PM

© সংগৃহীত

২০১৫ সালের ওয়ানডে সিরিজ জয়ের সুখস্মৃতি ফেরানো গেলো আজ বুধবার সাত বছর পর। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রোহিত শর্মাদের ৫ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। ২৭২ রানের লক্ষ্যে ভারত ৯ উইকেটে করতে পেরেছে ২৬৬ রান।

এ নিয়ে ভারতের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৫ সালে ঘরের মাঠে মহেন্দ্র সিং ধোনীর ভারতের বিপক্ষে দ্বিপক্ষীয় সিরিজটি টাইগাররা জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। এবার রোহিত-কোহলিদের ধবলধোলাইয়ের সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুদল।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টাইগারদের চ্যালেঞ্জিং স্কোরের সবচেয়ে বড় অবদান ক্যারিয়ারে প্রথমবার সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া মেহেদী হাসান মিরাজের। কম যাননি অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে ১৪৮ রানের জুটি গড়েন মিরাজ ও মাহমুদউল্লাহ।

ভারতের বিপক্ষে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। প্রথম ম্যাচে ধীরগতির ব্যাটিংয়ে প্রবল সমালোচনার শিকার মাহমুদউল্লাহ খেলেন ৯৬ বলে ৭৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

টস জিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে আগের ম্যাচের উদ্বোধনী জুটিতে বদল আনে বাংলাদেশ। লিটন দাসের সঙ্গী হন এনামুল হক বিজয়। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল আছেন ছন্দে। ফ্লিক করেছিলেন, খেলেছিলেন দৃষ্টনন্দন কাভার ড্রাইভও। কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।  

মোহাম্মদ সিরাজের প্রথম দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। চতুর্থ বলে স্লিপে বিজয়ের ক্যাচ ছাড়েন রোহিত শর্মা। হাতে চোট নিয়ে মাঠও ছাড়তে হয় তাকে। পঞ্চম বল অফ সাইড থেকে কিছুটা সুইং করে প্যাডে লাগে বিজয়ের। সিরাজের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। রিভিউ নিলেও বাঁচতে পারেননি বিজয়। ৯ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরত যান তিনি।  

এরপর নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে এগোচ্ছিলেন লিটন দাস। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাকে।

দশম ওভারে সিরাজের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে লাইন মিস করেন তিনি। বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরত যেতে হয় বাংলাদেশ অধিনায়ককে। ২৩ বলে কেবল ৭ রান করেন লিটন।

নাজমুল হোসেন শান্ত পজিশন বদলেও বড় রান পাননি। ৩ চারে ৩৫ বলে ২১ রান করেন তিনি। উমরান মালিকের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। সাকিব ফিরে যান ওয়াশিংটন সুন্দরের ওভারে। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ হয় তার। স্লিপে দাঁড়ানো শেখর ধাওয়ান ক্যাচ ধরেন। ১ চারে ২০ বলে ৮ রান করেন তিনি।  

আফিফ হোসেন ও মুশফিকুর রহিমও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। ২ চারে ২৪ বলে ১২ রান করে শুরুতে মুশফিক সাজঘরে ফেরত যান ওয়াশিংটন সুন্দরের বলে ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ দিয়ে। নিজের মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে একই বোলারের ওভারে বোল্ড হয়ে যান আফিফ।

হুট করে ১৭ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে যায় বাংলাদেশ। এরপর দলের হাল ধরেন আগের ম্যাচে নায়ক হয়ে ম্যাচ জেতানো মেহেদী হাসান মিরাজ। দারুণ সব শটের সঙ্গে তিনি খেলছিলেন দায়িত্ব নিয়েও। তার সঙ্গে এই ইনিংসের সবচেয়ে বড় হাইলাইট মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের রানে ফেরা।  

ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনেও তার জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বেশ কয়েকবার। এখনও দলে থাকার মতো সক্ষমতা আছে কি না, কথা উঠেছিল এ নিয়েও। সবকিছুর প্রমাণ যেন মাঠেই দিতে চাইলেন রিয়াদ। মিরাজের সঙ্গে তার ১৪৭ রানের জুটি ভাঙে ৪৭তম ওভারে এসে।  

উমরান মালিকের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৭ চারে ৯৬ বলে ৭৭ রান করেন রিয়াদ। তিনি সাজঘরে ফেরার পরও দলকে টেনে নেন মিরাজ। উইকেটের সামনে, পেছনে; বাউন্ডারি ও ওভার বাউন্ডারিতে পেয়ে যান শতকের দেখা। নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি হাঁকানোর পথে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২ হাজার রান ও দুইশ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেলেন এই অলরাউন্ডার।  

মিরাজের অসাধারণ ইনিংসটি শেষ পর্যন্ত থেকেছে অপরাজিতই। ৮ চার ও ৪ ছক্কার ইনিংসে ৮৩ বলে ১০০ রান করেন মিরাজ। রোমাঞ্চকর অপেক্ষা শেষে ইনিংসের শেষ বলে গিয়ে পূর্ণ করেন শতক। শেষ পাঁচ ওভারে দলের রান হয় ৬৮। বাংলাদেশ পায় ২৭১ রানের সংগ্রহ। ওয়াশিংটন সুন্দর তিন ও উমরান মালিক- মোহাম্মদ সিরাজ নেন দুই উইকেট করে।

জবাব দিতে নামা ভারতের হয়ে ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়া রোহিত শর্মার বদলে এদিন ইনিংস উদ্বোধনে আসেন লোকেশ রাহুল ও বিরাট কোহলি। প্রথম বলেই চার হাঁকান কোহলি। দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে এসে তাকে সাজঘরে ফেরত পাঠান এবাদত হোসেন।  

পুল করতে গিয়ে ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হয়ে যান কোহলি। আউট করেই ছুটতে শুরু করেন এবাদত। দৌড়ে যান ড্রেসিং রুমের কাছে। স্যালুট জানান ড্রেসিং রুমের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পেস বোলিং কোচ গুরু অ্যানাল্ড ডোনাল্ডকে। ৬ বলে ১ চারে ৫ রান করেন কোহলি।

পরের ওভারে বাংলাদেশ আরও এক উইকেট নেয়। এবার মোস্তাফিজ ফেরান শেখার ধাওয়ানকে। পয়েন্টে দাঁড়ানো মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। পরে লোকেশ রাহুল ও ওয়াশিংটন সুন্দর ফিরলে ৬৫ রানেই চার উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত।  

সেখান থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন শ্রেয়াস আয়ার ও অক্ষর প্যাটেল। দুজনেই পেয়ে যান হাফ সেঞ্চুরির দেখাও। দুজন মিলে গড়েন ১০৭ রানের জুটি। এবারও বাংলাদেশের ভরসার আলো হন মেহেদী হাসান মিরাজ।  

তাকে আকাশে ভাসিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন আয়ার। কিন্তু তিনি মিরাজের বলে ধরা পড়েন ডিপ মিডউইকেটে দাঁড়ানো আফিফ হোসেনের হাতে। দ্বিধাদ্বন্দ্ব বলে ঠিকঠাক ক্যাচটা নেন আফিফ। ১০২ বলে ৮২ রান করেন আয়ার।  

খানিক বাদেই সাজঘরে ফেরত যান অক্ষর প্যাটেলও, এবার সেই এবাদত বোলিংয়ে এসে নেন উইকেট। ৫৬ বলে ৫৬ রান করা অক্ষর ক্যাচ দেন সাকিব আল হাসানের হাতে। চোট পাওয়া রোহিত শর্মা ব্যাটিংয়ে নামেন ৯ নম্বর ব্যাটার হিসেবে। এবাদত হোসেন ৪৯তম ওভারে ক্যাচ ফেলে দেন।  

এরপর টানা দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে ফেলেন রোহিত। ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ২৮ বলে ৫১ রান করলেও দলকে জেতাতে পারেননি ভারতীয় অধিনায়ক। তবে ম্যাচ নিয়ে যান শেষ বল অবধি।  

ইয়াবা নিয়ে কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ আটক ২
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে হত্যার হুমকি, দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ৭
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আরব আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ কারা
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সরকারি চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে জবিতে বিক্ষোভ…
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতিসংঘে সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন পররাষ্ট্রমন…
  • ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ভাইবায় নম্বর বৃদ্ধির প্রতিবাদে কাল কুবিতে মানববন্ধন
  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9