নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা। © টিডিসি ফটো
নেত্রকোনার মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। ভবনের ছাদের বিম, দেয়াল ও মেঝেতে দেখা দিয়েছে ফাটল। যেকোনো মুহূর্তে ভবনের ছাদ ধসে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা ভয় ও শঙ্কা নিয়েই বসছে শ্রেণীকক্ষে।
সম্প্রতি গোবিন্দশ্রী দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ২৭০জন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করা হচ্ছে। এ সময় ওই ভবনের বিমে ফাটল দেখা যায়। এ ছাড়া ভবনের পলেস্তারও খসে পড়তে দেখা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলে, ‘ক্লাস করতে ভয় লাগে। এটা নিয়ে আমরা খুব আতঙ্কে আছি। আমাদের মধ্যে অনেকের বাবা-মা তাদেরকে মাদ্রাসায় আসতে দেয় না। কিন্তু হুজুররা ক্লাস করতে বলে তাই ক্লাস করি। আমাদের কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে হুজুরাই দায়ী থাকবেন।’
শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসা ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট বিভাগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ একাধিকার লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তাই বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় ৩৩০জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই পাঠদান করা হয়। এটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকরাও আতঙ্কে থাকে সবসময়।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মির্জা জাকারিয়া জানান, ১৯৯৬ সালে মাদ্রাসার ভবনটি নির্মাণ করা হয়। সেই থেকে কোনো রকম সংস্কার না করায় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়ে অফিস ও শ্রেণীকক্ষের ছাদের প্লাস্টার খসে রড বেরিয়ে গেছে। দেয়ালের প্রায় চারদিকে ফাটল ধরেছে। ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার পরেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই ভবনেই শঙ্কার মধ্যেই পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে একাধিকার সংশ্লিষ্ট বিভাগে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো সুরহা হয়নি।
এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার পুরাতন ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটি সংস্কার করা খুবই জরুরী। এ ব্যাপারে মাধ্যমিক শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরাবর আবেদন করার জন্য সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে পরামর্শ দিয়েছি।