দিনে সাড়ে ৬ টাকা টিফিন ভাতা পান শিক্ষকরা

০৯ মার্চ ২০২০, ০৯:০৩ AM

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ‘টিফিন ভাতা’ বাবদ প্রতি মাসে পান ২০০ টাকা। সে হিসেবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাড়ে ৬ টাকা। শিক্ষকরা বলছেন, এ ভাতা নামমাত্র। সাড়ে ৬ টাকায় এক কাপ চায়ের চেয়ে বেশি কিছু পাওয়া যায় না। নামমাত্র এ ভাতা তাদের জন্য অসম্মানজনক। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিক্ষকদের টিফিন ভাতা মাসিক ২০০ টাকা হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানসহ অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠানে সব কর্মচারীর টিফিন ভাতার পরিবর্তে দৈনিক ২০০ টাকা হারে লাঞ্চভাতা দেওয়া হয়।

গত সপ্তাহে কুড়িগ্রামের একজন শিক্ষক তার টিফিন ভাতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষকদের টিফিন ভাতার অপ্রতুলতা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদনে মনিবুল হক বসুনিয়া বলেন, ‘...আমাকে প্রদেয় মাসিক টিফিনভাতা ২০০/-(দুইশত) টাকা, যা গড়ে প্রতিদিন ৬.৬৬ (ছয় টাকা ছেষট্টি পয়সা) হারে দেওয়া হয়, তা আমি ব্যক্তিগত কারণে প্রত্যাহারের আবেদন জানাচ্ছি...।’

টিফিন ভাতা প্রত্যাহারে আবেদনকারী শিক্ষক মনিবুল হক বসুনিয়া সাংবাদিকদের বলেন  বলেন, ‘মাসে ২০০ টাকা টিফিন ভাতা, যার অর্থ গড়ে প্রতিদিন ৬ দশমিক ৬৬ টাকা। আর যদি গড় কার্যদিবস ২৫ দিন ধরি তাহলে ৮ টাকা করে প্রতিদিন। বর্তমান বাজারে ৮ টাকায় দুপুরের খাবার বা নাশতা পাওয়ার চিন্তা করাও বোকামি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ সেই চিন্তায়ই করেছেন, যা দুঃখজনক, হতাশাব্যঞ্জক, অসম্মানজনক, পাশাপাশি হাস্যকর বলে আমার মনে হয়েছে। যেহেতু ৮ টাকা দিয়ে দুপুরের খাবার তথা নাশতা পাওয়া অসম্ভব, সেহেতু টিফিন ভাতার নামে এই অসম্মানজনক প্রহসন থেকে নিজেকে মুক্ত করতেই আমি আমার বেতন ভাতা থেকে টিফিন ভাতা প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছি।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, ‘একজন শিক্ষককে সকাল ৯টার আগেই বিদ্যালয়ে পৌঁছতে হয়। সে হিসেবে তাকে বাসা থেকে রওনা করতে হয়ে সকাল ৭টার মধ্যে। যেহেতু বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাকে বিদ্যালয়ে থাকতে হয়, তাই শিক্ষকদের টিফিন ভাতার পরিবর্তে দৈনিক লাঞ্চ ভাতা দেওয়ার দাবি জানাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় বেতন স্কেল-২০০৯ থেকে প্রাথমিক শিক্ষকরা টিফিন ভাতা পেয়ে আসছেন। শুরুতে একজন শিক্ষক মাসিক ১০০ টাকা হারে টিফিন ভাতা পেতেন। পরে ২০১৪ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে এই ভাতা ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা হয় এবং সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এই ভাতা মাসিক ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সংশ্নিষ্টরা জানান, শিক্ষকরা প্রতিদিন সাত ঘণ্টা বিদ্যালয়ে পাঠদান করেন। দুপুরে টিফিন বাবদ তারা মাথাপিছু ৬ টাকা ৬৬ পয়সা করে পান। রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই একই ভাতা।

প্রাথমিক শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন থেকে প্রাথমিক শিক্ষকরা বেতন-ভাতার পাশাপাশি টিফিন ভাতা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে বিভিন্ন পেস্কেলে সরকার এ বিষয়টি যথাযথ মূল্যায়ন না করার কারণে শিক্ষকদের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা টিফিন ভাতাকে হাস্যকর, অপর্যাপ্ত ও অসম্মানজনক আখ্যায়িত করে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর এই ভাতা প্রত্যাহারের আবেদন করেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার আবুল কাশেম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিবুল হক বসুনিয়া। যদিও তিনি তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার কারণে এই ভাতা প্রত্যাহার চেয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. ফসিউল্লাহ বলেন, ‘একদিনের টিফিন হিসেবে সাড়ে ৬ টাকা অবশ্য খুবই কম, সত্যি। তবে সরকারকে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষককে টিফিন ভাতা দিতে হয়। এটি বাড়াতে গেলে বড় বাজেট লাগবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আলোচনা করা হবে।’

 

এসএসসিতে রেকর্ড ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে পাসের হার
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
একাদশে ভর্তি শেষ করতে হবে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে 
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
শুধু পুনঃনিরীক্ষণ নয়, এবার পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন ফলা…
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
তিন বিষয়ের কারণে ফলাফলে ধস ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
কারিগরিতে কমেছে জিপিএ ৫ ও পাসের হার
  • ১০ আগস্ট ২০২৬
৪ বছরের মাথায় জিপিএ-৫ এ ধস
  • ১০ আগস্ট ২০২৬