মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুদকের অভিযান © সংগৃহীত
মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুরজাহান হামিদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দুদকের অভিযানে তার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়ায় তাকে বরখান্ত করা হয়।
সোমবার দুদক হটলাইনে (১০৬) ভুক্তভোগী অভিভাবকদের অভিযোগ পেয়ে স্কুলটিতে অভিযান পরিচালনা করে দুদক। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য।
দুদকের অভিযোগ থেকে জানা যায়, অভিভাবকদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষিকা নূরজাহান হামিদা বাধ্যতামূলকভাবে বিনা রসিদে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা করে নিচ্ছেন। এমনকি হতদরিদ্রদের সন্তানদেরও বিনা মূল্যে ভর্তি করানো হয়নি। বরং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে।
দুদকের অনুসন্ধান টিম জানতে পারে, ২০১৯ সালে ভর্তি বাবদ ওই প্রধান শিক্ষিকা ৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নিয়েছেন। এছাড়া ২০০৩ সাল থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার পদে বসে কল্যাণ তহবিলের নামেও অনেক টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব টাকার কোনো আয় ব্যয়ের হিসাব রাখা হয়নি। দুদকের কর্মকর্তাদের কাছে এসব অভিযোগ স্বীকার করেন নূরজাহান হামিদা।
এদিকে এ ঘটনা উদ্ঘাটন হওয়ার পরপরই দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন) বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান। এরপরই প্রধান শিক্ষিকা নুরজাহান হামিদাকে বরখাস্তের আদেশ জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ এর বিধি ৩(ঘ) অনুযায়ী ২৮ জানুয়ারি থেকে তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।