অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প ’প্রোবায়োটিক’

২৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৬:০৯ PM

© ফাইল ফটো

পোল্ট্রির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উন্নত বিশ্বে প্রোবায়োটিকের বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বেশ আগে থেকেই। বাংলাদেশে আমদানি নির্ভর হলেও যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বাড়ছে পোল্ট্রি শিল্পে এর ব্যবহার। বিভিন্ন প্রকার জীবিত ক্ষুদ্র উপকারী অণুজীব প্রোবায়োটিক হিসেবে পরিচিত। খাবারের সাথে এসব উপকারী অণুজীব পোল্ট্রিকে খাওয়ানো হয়। অণুজীবগুলো পোল্ট্রির রোগ প্রতিরোধ-ক্ষমতা, খাবার হজমে ও দৈহিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং উপকারী অণুজীবের কার্যকারিতা বাড়াতে এখন দেশেই বাণিজ্যিকভাবে প্রোবায়োটিক উৎপাদনের জন্য চলছে গবেষণা। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং তিনটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপকারী প্রোবায়োটিক অণুজীব নিয়ে গবেষণা চলছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ’ শিক্ষাখাতে উচ্চতর গবেষণা সহায়তা কর্মসূচির’ আওতায় ‘বাংলাদেশী অনুজীব থেকে বাণিজ্যিক প্রোবায়োটিক উৎপাদন ও তাদের সম্ভাব্যতা যাচাই’ প্রকল্পের প্রধান গবেষক শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও পাবলিক হেলথ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. কে, বি, এম, সাইফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে প্রোবায়োাটিকের ব্যবহার অনেক আগে শুরু হলেও বর্তমানে এ অণুজীবের ব্যবহার অনেক বেড়েছে। আমাদের দেশি মোরগ-মুরগী রাস্তা ঘাটে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেয়ে থাকে। তাতে অনেক অণুজীব থাকে। এসব দেশি মুরগীর পাকস্থলির বৃহদান্ত্র এবং খাদ্যথলিতে রয়েছে বেশ কিছু উপকারি অনুজীব। এসব উপকারী অনুজীব মুরগীর দেহে প্রবেশ করা ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে ফেলে। তাই দেশি মুরগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশী হয়’।

ড. সাইফুল আরো বলেন, দেশি মুরগীর দেহে বেশ কয়েকটি উপকারী অণুজীব শনাক্ত করেছি। এসব অণুজীব প্রোবায়োাটিক হিসেবে ব্যবহার করে অ্যান্টিবায়োটিক নির্ভরতা অনেকাংশেই কমানো সম্ভব। ফলে পোল্ট্রির উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমে যাবে’। আগামী দুই বছরের মধ্যে এসব উপকারী অণুজীব বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে খামারিদের সরবরাহ করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অতিমাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে ক্ষতিকর অণুজীবগুলো অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে যাচ্ছে। এসব মুরগী খাওয়ায় দেহের অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমে যাচ্ছে। তাই মানুষ অসুস্থ হলে প্রয়োগকৃত অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে পারছে না। তাই প্রোবায়োটিককে অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে দেখছেন তরুণ গবেষক ড. সাইফুল।

গবেষণার জন্য তিনি চলতি বছরে রাস্তায় ময়লা-আর্বজনা খেয়ে অভ্যস্থ সুস্থ দেশি মুরগী সংগ্রহ করেন। সংগৃহিত এসব মুরগী জবাইয়ের পর গবেষণাগারে নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। পরীক্ষায় মুরগীর বৃহদান্ত্রের সিকাম এবং খাদ্যথলির গায়ে উপকারী বিফিডোব্যাকটেরিয়া এবং ল্যাকটোবেসিলাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেন। এসব উপকারী অণুজীব মুরগীর পাকস্থলির এপিথেলিয়াল স্তরে লেগে থাকে এবং মুরগীর দেহে প্রবেশকৃত ক্ষতিকর জীবাণু ধংস করে ফেলে।

প্রোবায়োটিক অণুজীব নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান। তিনি দেশি মুরগীতে প্রাপ্ত ল্যাকটোবেসিলাস নিয়ে গবেষণা করছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়েও চলছে এটা নিয়ে গবেষণা।

পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রোবায়োটিকের কার্যকরী ব্যবহার পোল্ট্রির যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাবে তেমনি লাভজনক করবে পোল্ট্রিশিল্পকে।

 

সাভারে মসজিদের মাঠে প্রেশারকুকারে থাকা বোমাটি নিষ্ক্রিয় করল…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ফের আন্দোলনের ইঙ্গিত ককরোচ জনতা পার্টির
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
নিউমার্কেটে চাঁদাবাজি, এবার বহিষ্কার যুবদলের পাঁচ নেতা
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ডিআইএ কর্মচারী সমিতির সভাপতি সোহেল, সম্পাদক শাহপরান
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ঝালকাঠিতে পরীক্ষায় ৭ বিষয়ে ফেল, শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
অনন্য মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় মুশফিক
  • ১২ আগস্ট ২০২৬