মো. আসিব ও তার জিপিএ-৫
নাম মো. আসিব। বয়স ১০ বছর। এই বয়সেই সে পেশাজীবী। হবেই বা না কেন, বাবা যে তার শারীরিক প্রতিবন্ধী। হুইল চেয়ারেই যার নিত্যদিনের বাস। মা খাদিজা বেগম গৃহিণী। টানাপোড়েনের সংসার। যেন নুন আনতে পান্তা ফুরায়। আর এসব মেনে নিয়েই পড়ালেখা করেন আসিব। পাশাপাশি চালান ঝালমুড়ি বিক্রির ব্যবসা। যদিও মেধার পয়েন্টে অন্য সবার চেয়ে ব্যতিক্রম ও আপোসহীন সে। অন্যসব কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীর মত সেও এবার পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। আজ সোমবার প্রকাশিত পিএসসি ফলে জিপিএ-৫ পেয়েছে আসিব।
যদিও জিপিএ-৫ পাওয়ার গল্পটা আরেকটু আবেগি। আজ ফল প্রকাশের দিনে অন্য সবার মত আসিবের মনেও সখ জেগেছিল সবাইকে মিষ্টিমুখ করানোর। সে কারণেই আত্মবিশ্বাসী আসিব শুরু করেন ঝালমুড়ি বিক্রি। সবাইকে মিষ্টিমুখ করানোর জন্য জমান ১১০ টাকা। পূরণ করেন মিষ্টি খাওয়ানোর ইচ্ছা।
আসিবের বাড়ি গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায়। ব্রাহ্মনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সে। তার বাবার নাম মো. মুসলিম। আসিবের স্বপ্ন আকাশছোঁয়ার। হতে চায় পাইলট। উড়ে বেড়াতে চায় সারা বিশ্ব।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আর্থিক সাহায্যের জন্য আসিবের মা তার বাবাকে হুইল চেয়ারে করে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যান। মেধাবী আসিফ বাবা-মায়ের আগ্রহ এবং নিজের প্রচেষ্টায় পড়াশোনা করে এ ফলাফল অর্জন করে দারিদ্র্যতাকে জয় করেছেন।
তার এই অসাধারন ফলাফলে আসিবের শিক্ষকরাও অনেক খুশি। তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থী আসিব 'এ প্লাস' পেয়েছে। পাশপাশি আমাদের বিদ্যালয় থেকে ৫ জন 'এ প্লাস' ও ১৩ জন 'এ' সহ মোট ৩৫ জনের সবাই পাশ করেছে। তিনি আরো বলেন, আমরা সব শিক্ষক-শিক্ষিকা আসিবসহ অন্য শিক্ষার্থীদের উত্তরোত্তর সফলতা কামনা করছি।