দেশের প্রথম আলোকিত স্মার্ট স্কুল চুয়াডাঙ্গায়

২০ নভেম্বর ২০১৮, ০২:৩২ PM
দেশের প্রথম আলোকিত স্মার্ট স্কুলের ক্লাস চলছে।

দেশের প্রথম আলোকিত স্মার্ট স্কুলের ক্লাস চলছে। © সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গায় সরকারি অর্থায়নে দেশের প্রথম আলোকিত স্মার্ট স্কুল চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকে ঝরেপড়া রোধ ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে এই উদ্যোগ নেয়া হয়। এর মূল্য লক্ষ্য ঝরেপড়া শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর করে আগামীর আলোকিত মানুষ হিসাবে গড়ে তোলা।

দেশের প্রথম স্মার্ট স্কুল। তাই স্কুলটিতে বেশ ভিন্নতাও আছে। গোটা স্কুলটি নানা রঙে সাজিয়ে শোভাবৃদ্ধি করে দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে শিশুদের আকৃষ্ট করতে। ডিজিটাল হাজিরাসহ শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পাঠদান করতে পারছেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরিকল্পনায় গড়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশের প্রথম এই আলোকিত স্মার্ট স্কুল। আর তাই প্রথম স্মার্ট স্কুলটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ ও শিক্ষার্থীরাও।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া ইউনিয়নের পীরপুর গ্রামে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে স্কুলটি নির্মাণ করা হয়েছে। স্কুলটি দৃষ্টিনন্দন করতে প্রতিটি দেয়ালে নানা রঙের রঙতুলি, ছবি ও কার্টুন আঁকা হয়েছে। যাতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলমুখী হয়।

আফসার উদ্দীন নামে এক অভিভাবক বলেন, কিছুদিন আগেও গ্রামের প্রাইমারি স্কুলটি ছিল ভাঙাচোরা। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি পড়তো শ্রেণীকক্ষে। শিক্ষকরাও শ্রেণীকক্ষে পাঠদানে তেমন মনোযোগী ছিলেন না। আর এ কারণে ছেলে-মেয়েরা স্কুলে না যেতে নানা ফন্দি আঁটতো।

তিনি বলেন, এখন নতুনভাবে দৃষ্টিনন্দন করে বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট স্কুলটি নির্মাণ করা হয়েছে। নানান রঙে সাজিয়ে তোলা হয়েছে গোটা স্কুলপ্রাঙ্গন। তাই রঙিন ও দৃষ্টিনন্দন হওয়াতে নিজ উদ্যোগেই এখন শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে।

স্মার্ট স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুর জব্বার বলেন, বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট স্কুল তাদের গ্রামে হওয়াতে দারুণভাবে খুশি গ্রামের সাধারণ মানুষ। এতে করে গ্রামের ছেলে মেয়েদের মধ্যে পড়া-লেখার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকরাও অনেক সচেতন হয়েছে।

সুমাইয়া ও রবিন নামে দুই শিক্ষার্থী জানায়, বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট স্কুলের শিক্ষার্থী আমরা। এটা আমাদের জন্য খুব আনন্দের। একই সাথে এ স্কুলে লেখাপড়া করতে পেরে আমরা খুব খুশি।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, দেশের প্রথম স্মার্ট স্কুল হওয়াতে আগের চেয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক বেড়েছে। তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর ও আলোকিত মানুষ গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

দেশের প্রথম স্মার্ট স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনাকারী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াশিমুল বারী বলেন, ইতোমধ্যে সদর উপজেলার চারটি রঙিন স্কুল আমার পরিকল্পনাতে তৈরি হয়েছে। সেই পরিকল্পনা থেকেই বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট স্কুল তৈরির পরিকল্পনা মাথায় আসে।

তিনি জানান, স্কুলটিতে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল হাজিরার পাশাপাশি শিক্ষকদেরও এই হাজিরার আওতায় আনা হয়েছে। একই সাথে প্রতিটি ক্লাসে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ও নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইউএনও আরও বলেন, বিদ্যালয়টিতে সার্বক্ষণিক নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার পাশাপাশি গোটা স্কুলটি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে। তার মতে এমন উদ্যোগ শিশুদের স্কুলে যেতে দারুণভাবে উৎসাহিত করবে। একই সাথে প্রতিটি শিশু প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে গড়ে উঠবে। আর এতে করেই দেশ ডিজিটাল বিনির্মাণে এগিয়ে যাবে।

এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের আওতায় স্কুলটি নির্মাণে বায় ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। গত ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশের প্রথম স্মার্ট স্কুলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক গোপাল দাস।

প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষর জাল করে মন্ত্রণালয়ে চিঠি, গ্রেপ্তার ৬…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
কুবির সাজেদা সুলতানার মাইক্রোসফট এমভিপি অর্জন
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
বেরোবিতে উপাচার্যের পিএসহ ১৫ কর্মকর্তার অবৈধ পদোন্নতি, বেতন…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ১৫ ও ১৬তম গ্রেডে ১৭ পদে চা…
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
অবিলম্বে ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দাবি ছাত্রশিবিরের
  • ১২ আগস্ট ২০২৬
মন্ত্রিত্ব ও মহাসচিবের পদ ছাড়ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম
  • ১২ আগস্ট ২০২৬