ফজলে রাব্বি রিজন ও শারমিন জাহান © সংগৃহীত
২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ফেলোশিপে মনোনীত হয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান এবং ফজলে রাব্বি রিজন। দুজনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে ত্বকের ক্যান্সার শনাক্তকরণের একটি কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবেন ফজলে রাব্বি। গবেষণার বিষয়ে তিনি জানান, এ গবেষণায় ত্বকের ক্যান্সার বিশেষ করে মেলানোমা সময়মতো শনাক্ত করার জন্য মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক কম্পিউটার সহায়ক ডায়াগনস্টিক পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের ত্বকের ক্ষত সঠিকভাবে শ্রেণিবিন্যাসের জন্য (আইএসআইসি ২০১৯) ডেটাসেট ব্যবহার করে মডেল উন্নয়ন ও মূল্যায়ন করা হয়েছে। মডেলের নির্ভুলতা ও স্থায়িত্ব বাড়াতে ডেটা অগমেন্টেশন, ফিচার ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এনসেম্বেল লার্নিং কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো চিকিৎসকদের জন্য একটি কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য এআইভিত্তিক ডায়াগনস্টিক সহায়ক ব্যবস্থা তৈরি করা, যা ত্বকের ক্যান্সারের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইসিটি ফেলোশিপ অর্জনের এই স্বীকৃতি ও সহায়তা আমাকে গবেষণার পথে আরও মনোযোগী ও নিবেদিতভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা জোগাবে। এই অর্জনের পেছনে যাদের অবদান রয়েছে বিশেষ করে আমার সুপারভাইজার ড. তুষার কান্তি সাহা, বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক এবং আমার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।
ফেলোশিপপ্রাপ্ত আরেক শিক্ষার্থী শারমিন জাহান কাজ করবেন মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে নারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের হয়রানি শনাক্তকরণ বিষয়ে। নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, আইসিটি ফেলোশিপ অর্জন করা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও অনুপ্রেরণার। এ স্বীকৃতি আমাকে আমার থিসিস আরও গভীরভাবে ও দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে নিতে উৎসাহিত করবে। এ থিসিসের লক্ষ্য হলো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে হয়রানির ধরন ও মাত্রা বিশ্লেষণ করে একটি কার্যকর শনাক্তকরণ ব্যবস্থা তৈরি করা। এ থিসিসে প্রশ্নমালার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে ডেটা প্রিপ্রসেসিং, ফিচার এক্সট্রাকশন এবং মেশিন লার্নিং মডেলের মাধ্যমে হয়রানি শনাক্ত করার একটি কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মাস্টার্স, এমফিল, ডক্টরাল এবং পোস্ট ডক্টরাল পর্যায়ে গবেষণার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ কর্তৃক চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বৃত্তি, ফেলোশিপ প্রদানের লক্ষ্যে বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং অ্যাওয়ার্ড কমিটির সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৪৮ জন শিক্ষার্থী, গবেষককে মনোনয়ন প্রদান করা হয়েছে।