ইদুল আজহার দুই রাকাত নামাজ পড়ার নিয়ম ও আরবি-বাংলা নিয়ত

২৭ মে ২০২৬, ০১:১২ PM
ঈদের নামাজ

ঈদের নামাজ © সংগৃহীত

ফের এলো ঈদুল আজহা; যা মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ দিনের মূল আকর্ষণ হলো জামাতে ঈদের নামাজ আদায়। এরপর পশু কোরবানি। তবে অনেকেই ঈদের নামাজের সঠিক পদ্ধতি নিয়ে দ্বিধায় থাকেন। ইসলামী শরীয়তের আলোকে এ নামাজের নির্দিষ্ট নিয়ম ও সুন্নাহভিত্তিক পদ্ধতি রয়েছে।

ইসলামী সূত্র মতে, ঈদের নামাজ দুই রাকাত। সাহাবি হযরত উমর (রা.) বলেন, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার নামাজ দুই রাকাত এটাই পূর্ণাঙ্গ নামাজ, এতে কোনো সংক্ষিপ্ততা নেই।

ঈদুল ফিতরের নামাজের নিয়ত
نويت ان اصلي لله تعالي ركعتي صلاة العيد الاضحى مع ستة تكبيرات واجب الله تعالى اقتديت بهذا الامام متوجها الى جهة الكعبة الشريفة الله اكبر

আরবি নিয়তের বাংলা উচ্চারণ হলো- নাওয়াইতু আন উছাল্লিয়া লিল্লাহি তা আলা রাকয়াতাই ছালাতিল ঈদিল আযহা মাআ ছিত্তাতি তাকবীরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তা আলা ইক্বতাদাইতু বিহাজাল ইমামি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারীফাতি আল্লাহু আকবার।

নামাজের পদ্ধতি
ঈদের নামাজের জন্য ঈমাম তাকবিরে তাহরিমা অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধলে তার সঙ্গে হাত বাঁধতে হবে। এরপর ছানা- ‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা যাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।’ পড়তে হবে।

এরপর অতিরিক্ত ৩ তাকবির দেয়া হবে। যেখানে প্রতিটি তাকবিরের মধ্যে তিন তাসবিহ সমপরিমাণ সময় থাকে। এরমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দিতে হবে। এরপর তৃতীয় তাকবিরে উভয় হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হবে। 

এরপর আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহসহ সুরা ফাতিহা পড়তে হবে এবং আরেকটি সুরা মেলাতে হবে। এরপর নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সিজদার মাধ্যমে ঈদের নামাজের প্রথম রাকাত শেষ করে উঠে দাঁড়াতে হবে।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় রাকাতে বিসমিল্লাহসহ সুরা ফাতিহা পড়তে হবে। তারপর আরেকটি সুরা মেলানো শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত ৩ তাকবির দিতে হবে। এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দিতে হবে। 

তৃতীয় তাকবিরে উভয় হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হবে। এরপর রুকুর তাকবির দিয়ে নিয়মিত নামাজের মতো রুকু-সিজদা আদায় শেষে বৈঠকে বসতে হবে। তারপর বৈঠকে তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে ঈদের নামাজ সম্পন্ন করতে হবে।

ঈদের নামাজের পর তাকবির
ঈদের নামাজের সালাম ফেরানোর পর তাকবির পড়তে হয়। তাকবির হলো-
اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد। উচ্চারণ: ‘আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর, ওয়া-লিল্লাহিল হামদ্‌।’

ঈদের নামাজ পড়তে যারা যান, তাদের মনে রাখতে হবে- ২ রাকাত ওয়াজিব নামাজের পর ইমাম দু’টি খুতবা দেবেন। এ সময় মুসল্লিদের মনোযোগ সহকারী খুতবা শুনতে হবে।

খুতবার নিয়ম
ঈদের নামাজ শেষে ইমাম খুতবা প্রদান করেন, যা জুমার খুতবার মতো নয় বরং আলাদা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। খুতবার মাধ্যমে মুসল্লিদের নসিহত, দিকনির্দেশনা এবং সামাজিক বার্তা প্রদান করা হয়। বিশেষ করে নারীদের জন্যও আলাদা করে উপদেশ দেওয়ার কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক
ইসলামের বিধান অনুযায়ী, ঈদের নামাজ আগে আদায় করতে হবে, এরপর খুতবা দিতে হবে। হাদিসে এসেছে, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বপ্রথম নামাজ আদায় করতেন, তারপর খুতবা দিতেন।

সাহাবি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) ঈদের দিন নামাজ শেষ করে মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তাদেরকে উপদেশ দিতেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করতেন। [সূত্র: ইসলাম কিউএ]

এবার এজ নজরে জেনে নেওয়া যাক ঈদের নামাজ আদায়ের নিয়ম-
‌১. ঈমামের সঙ্গে তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে উভয় হাত বাঁধা।
২. তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়া-
‘সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়াতাআলা জাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।
৩. এরপর অতিরিক্ত ৩ তাকবির দেওয়া।
৪. এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকা।
৫. প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া।
৬. তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হয়।
৭. আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া
৮. সুরা ফাতেহা পড়া
৯. সুরা মিলানো। এরপর নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সেজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করা।

দ্বিতীয় রাকাত
১. বিসমিল্লাহ পড়া
২. সুরা ফাতেহা পড়া
৩. সুরা মিলানো।
৪. সুরা মিলানোর পর অতিরিক্ত ৩ তাকবির দেওয়া।
৫. প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া।
৬. তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত তাকবিরে তাহরিমার মতো বেঁধে নিতে হয়।
৭. এরপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাওয়া।
৮. সেজদা আদায় করা।
৯. বৈঠকে বসা; তাশাহহুদ, দরূদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।
১০. নামাজের সালাম ফেরানোর পর তাকবির পড়া-
اَللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَر لَا اِلَهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَر اَللهُ اَكْبَروَلِلهِ الْحَمْد
উচ্চারণ : আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবর ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
১১. নামাজের পর ইমাম সাহেবের দুটি খুতবা দেওয়া।

ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম খুতবা দেবে আর মুসল্লিরা খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শুনবেন। অবশ্য অনেকেই খুতবা না দেওয়ার ব্যাপারে শিথিলতার কথা বলেছেন। খুতবা না দিলেও ঈদের নামাজ আদায় হয়ে যাবে বলে মত দিয়েছেন।

অতিরিক্ত তাকবির অতিরিক্ত তাকবিরের ক্ষেত্রে অন্যান্য মাজহাবসহ অনেকেই প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমাসহ ৭ তাকবির আর দ্বিতীয় রাকাআতে ৫ তাকবিরে দিয়ে থাকেন। যদি কেউ অতিরিক্ত ৬ তাকবির দেয় কিংবা অতিরিক্ত ১১ তাকবির দেয় তাতে নামাজের অসুবিধা হবে না বরং নামাজ হয়ে যাবে।

ঈদের নামাজে তাকবির পড়া ঈদের চাঁদ দেখার পর থেকে অর্থাৎ ৩০ রমজান ইফতারের পর প্রথম কাজই হচ্ছে তাকবির তথা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তাকবির পড়া। এটিই ঈদের প্রথম কাজ। আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমেও তাকবির পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এভাবে-

وَلِتُكْمِلُواْ الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُواْ اللّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

‘আর তোমাদের আল্লাহ তাআলার মহত্ত্ব বর্ণনা করো, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করো।’( সুরা বাকারা : আয়াত ১৮৫)

রাজধানীসহ বিভাগীয় শহরগুলোর ঈদ জামায়াতের সময় দেখুন এখানে
  • ২৭ মে ২০২৬
নতুন শঙ্কায় নেইমার, আলোচনায় বিকল্প
  • ২৭ মে ২০২৬
সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে যে ৬ জেলায়
  • ২৭ মে ২০২৬
আদ-দ্বীনে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় সরকারের তদন্ত কমিটি গঠন
  • ২৭ মে ২০২৬
‘বাংলাদেশে মন্ত্রিত্ব সোনার পাথরের বাটি, ঘষা দিলেই কুরবানির…
  • ২৭ মে ২০২৬
এআই বিশ্লেষণে এগিয়ে ফ্রান্স, শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্পেন
  • ২৭ মে ২০২৬