জাককানইবিতে সিজিপিএ কম থাকার পরও বিশেষ যোগ্যতায় শিক্ষক নিয়োগ!

০৮ জুলাই ২০২১, ০৪:৩৪ PM
হীড়ক মুশফিক

হীড়ক মুশফিক © ফাইল ছবি

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ফলাফল কম থাকায় বিশেষ যোগ্যতায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগে অস্থায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান (হীড়ক মুশফিক)। ২০১৮ সালে প্রকাশিত সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জাককানইবির একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

সম্প্রতি ড. সৈয়দ মামুন রেজা ৭টি অভিযোগ এনে মুশফিকুর রহমানের (হীড়ক মুশফিক) বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর অভিযোগ করেন।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩মে অধ্যাপক পদের বিপরীতে প্রভাষক পদে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জাককানইবি প্রশাসন। বিজ্ঞপ্তিতে একটি বিশেষ ধারা যুক্ত করে বলা হয়, বিশেষ যোগ্যতা সম্পন্ন আবেদনকারীর ক্ষেত্রে একাডেমিক ফলাফলের যেকোন একটির আংশিক শিথিল করা যেতে পারে।

নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করা ব্যক্তিদের মধ্যে মুশফিকুর রহমানের একাডেমিক সিজিপিএ ছিলো বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া সিজিপিএ ৩.৫০ (৪.০০) থেকে কম ৩.২৫ (৪.০০)। কিন্তু আবেদনে বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের 'জনশিক্ষা' নামক একটি ত্রৈমাসিক পত্রিকায় আর্টিকেল প্রকাশিত হবে দেখিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্যে সুপারিশ করে ২০১৮ সালের নাট্যকলা বিভাগের প্ল্যানিং কমিটি। যা আবেদন জমার শেষ তারিখের মধ্যে প্রকাশিত হয়নি। সেসময়ের প্ল্যানিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বিভাগের প্রধান হিসেবে ইসমত আরা ভূইয়া ইলা, বিভাগের অন্য দুই শিক্ষক আল জাবির এবং নীলা সাহা।

অভিযোগ রয়েছে, সেই সময়কার বিভাগটির প্রধান ইসমত আরা ভূইয়া ইলার ইচ্ছাতেই কম সিজিপিএ থাকা সত্ত্বেও বিশেষ যোগ্যতা দেখিয়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেয়েছিলেন মুশফিকুর রহমান এবং সেই প্ল্যানিং কমিটির সদস্যরাও তাতে সম্মতি দিয়েছিলেন।

এছাড়াও পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন এবং মৌখিক পরীক্ষায় এক্সপার্ট শিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুশফিকুর রহমানের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শাবিন শাহরিয়ার। এই শিক্ষক ইসমত আরা ভূইয়া ইলা এবং আল জাবির দুজনেরও শিক্ষক। তবে নিয়োগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. এস এম ফারুক হোসাইনের প্রভাব রয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিভাগটির এক শিক্ষক।

এদিকে বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে পরীক্ষায় বসতে পেরেছিলো ১৫ এর অধিক পরীক্ষার্থী, যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়টির চাকুরী প্রত্যাশী ৩ জন সাবেক শিক্ষার্থীও ছিলেন। তবে নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো সিজিপিএ থাকা সাবেক শিক্ষার্থীর কেউই পাশ করতে পারেনি। পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে এক্সপার্ট ও সেই সময়ের বিভাগীয় প্রধান ইসমত আরা ভূইয়া ইলা ভালো সিজিপিএধারীদের ফেল করিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষকের।

অন্যদিকে জানা যায়, সেই সময়ের নিয়োগ প্রাপ্তির দৌঁড়ে এগিয়ে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সাঈফ মন্ডল। তাকে নিয়োগ দিতেও চেষ্টা করেছিলেন বিভাগটির আরেক শিক্ষক। অভিযোগ রয়েছে পরীক্ষা দিতে আসা সাঈফ মন্ডলকে নিজ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরিতে থাকারও ব্যবস্থা করে ছিলেন তিনি।

সেই সময়ে বিভাগটির প্রধান ইসমত আরা ভূইয়া ইলা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার মতো করে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছেন, সেখানে বিভাগের কিছু করার নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশাসন জানে। আমার জানা মতে, সেটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়েছে। পাশাপাশি বলেছেন, হীড়ক বিশেষ যোগ্যতায় নিয়োগ পেয়েছে। নিজ বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থীদের ফেল করার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।

এদিকে 'জনশিক্ষা' নামক ত্রৈমাসিক পত্রিকায় প্রকাশিত আর্টিকেলকে বিশেষ যোগ্যতায় বিবেচনায় নিয়ে এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়ে নিয়োগ পেয়েছেন মুশফিকুর রহমান। যা মানতে নারাজ অভিযোগ জমা দেয়া বিভাগটির শিক্ষক ড. সৈয়দ মামুন রেজা। তিনি বলেন, একটি মানহীন জার্নালে লেখা প্রকাশ হবে দেখিয়ে এবং সেটি আবেদন জমার শেষ তারিখের পর প্রকাশিত হয়েছে যা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অনৈতিক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ছুটির আইন অনুযায়ী, অস্থায়ীভাবে চাকুরীতে যোগদানের প্রথম এক বছরের মধ্যে কোন শিক্ষাছুটি না পাওয়ার কথা থাকলেও বিশেষ সুবিধায় নিয়েছেন অসাধারণ ছুটি। নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ার পরও স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছিলেন কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে মামুন রেজা অভিযোগ তুলেছেন, স্নাতকোত্তর শ্রেণির পরীক্ষার কারণ উল্লেখ না করে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতীতে ৩য় সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে মুশফিকুর রহমান বলেন, আমি আলাদা করে কিছু বলতে চাই না। প্রশাসন আমাকে নিয়োগ দিয়েছে তারাই বলতে পারবে সব কিছু। আমি নিয়ম মেনেই সকল কিছু করেছি।

৭টি অভিযোগ এনে ড. সৈয়দ মামুন রেজা বলেন , অনিয়মের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছিলো বিভাগে তাই অভিযোগ করেছি। আরো আগেই অভিযোগ করার দরকার ছিলো কিন্তু সকল তথ্য সংগ্রহ করতে সময় লাগায় বিলম্ব হয়েছে। আমি অভিযোগ জানিয়েছি প্রশাসন তদন্ত করে প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানাই। যেহেতু এখনো তার নিয়োগ অস্থায়ী, তাই স্থায়ীভাবে যোগ্য কাউকে নিয়োগ প্রদান করা হোক।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। এটি প্রথমে আমরা বিশ্লেষণ করে দেখবো ঠিক আছে কিনা। যদি আমরা প্রাথমিকভাবে না পারি তখন কমিটি করে দায়িত্ব দেয়া হতে পারে। আর ২০১২ সালের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটির আইন অনুযায়ী, মুশফিকুর রহমান ছুটি পেতে পারেন না। তবে বিভাগের চাওয়ার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটিকে আটকায় নি।

অন্যদিকে অভিযোগকারী শিক্ষক ড. সৈয়দ মামুন রেজার বিরুদ্ধেও বিভাগটির এক শিক্ষক বলেছে, তিনিও কিন্ত কম সিজিপিএ নিয়ে বিভাগের শিক্ষক হয়েছেন, উনিই কিভাবে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে?

আরও কমল জ্বালানি তেলের দাম
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ছাত্রদল নেতার ছুরিকাঘাতে নারী ব্যবসায়ীর মৃত্যু
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
মামুনুলের শক্তি মোহাম্মদপুরের প্রভাব-প্রতিপত্তি, ববির আছে অ…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
সোনার দাম ফের বাড়ল, এবার কত?
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
এনএসইউ ইয়েস ক্লাবের ‘এন্ট্রেপ্রেট সিজন ৩’-এর গ্র্যান্ড ফিনা…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ব্যাংককে নিজের মনে করলে সেবার মান বহুগুণ বাড়বে: ইসলামী ব্যা…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬