বেরোবিতে বিকৃত জাতীয় পতাকা হাতে শিক্ষক-কর্মকর্তারা © ফাইল ফটো
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জাতীয় পতাকা বিকৃতির ঘটনায় করা মামলায় ১৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন রংপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ফজলে এলাহি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রলীগ নেতার করা মামলার অভিযোগে উল্লেখিত ১৯ শিক্ষক-কর্মকর্তা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। বিচারক উভয় পক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে কঠোর পুলিশ প্রহরায় অভিযুক্ত শিক্ষক-কর্মকর্তারা জামিনের জন্য আদালতে আসেন।
অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী আব্দুল হক প্রামাণিক জানান, জাতীয় পতাকা অবমাননার যে মামলা হয়েছে তা জামিনযোগ্য। আদালত দুই পক্ষের কথা শুনে জামিন মঞ্জুর করেছেন।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রফিক হাসনাইন বলেন, আমরা এই মামলার পুলিশ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দিয়েছি। কারণ, পুলিশ যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ভিসির লিখিত আদেশে বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালিত হয়েছে, তাতে তাকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আদালতকে বলেছি, এই মামলাটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হিসেবে গ্রহণ করতে। কারণ পুলিশ তদন্ত করে রাষ্ট্রদ্রোহ করার মতো অপরাধ পেয়েছে।
তবে মামলাটি রাষ্ট্রদ্রোহ হবে কি না, আদালত সে বিষয়ে এখনও আদেশ দেননি।
গত মহান বিজয় দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ১৫-২০ জন মিলে ক্যাম্পাসে অবস্থিত স্বাধীনতা স্মারকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গিয়ে বিকৃত জাতীয় পতাকা নিয়ে স্বাধীনতা স্মারকে দাঁড়িয়ে ছবি তোলেন। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেইসব ছবি পোস্ট করলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহামুদুল হক ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আসিফ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি আরিফ বাদি হয়ে নগরীর তাজহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন।