কে হচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি?

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৮:৪২ AM

© ফাইল ফটো

রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ১৯ মার্চ। এর মধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির পরবর্তী উপাচার্য কে হবেন? নতুন মুখ কেউ আসছেন, নাকি অধ্যাপক মীজানুর রহমানই তৃতীয় মেয়াদে পাচ্ছেন উপাচার্যের দায়িত্ব, তা নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন।

২০১৩ সালের ১৯ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন কোষাধ্যক্ষ ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান ৪ বছরের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন সরকার। পরবর্তীতের ২০১৭ সালে দ্বিতীয় দফায় তিনি আবারও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এই দায়িত্ব পান তিনি। আগামী ১৯ মার্চ তার এই দায়িত্ব শেষ হবে। এখন তৃতীয় মেয়াদে আবারও সরকার তাকে রাখবেন কিনা এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলছে নানা গুঞ্জন। উপাচার্যপন্থী কয়েক শিক্ষক তাকে আবার উপাচার্য হিসাবে চান। তবে দুই মেয়াদের বেশি আর কাউকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হবে না- সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল এরকম একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। 

জানা যায়, ২০০৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ. কে. এম. সিরাজুল ইসলাম খান প্রথম উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের অধ্যাপক আবু হোসেন সিদ্দিক দ্বিতীয় উপাচার্য হিসেবে এক বছরে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদকে তৃতীয় উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। তিনিই প্রথম উপাচার্য হিসেবে ৪ বছর এই দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯ মার্চ অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানকে চার বছরের জন্য ৪র্থ উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ দেন সরকার। প্রথম মেয়াদ শেষে ২০১৭ সালে তাকে পুনরায় দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ দেয় সরকার।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী উপাচার্য হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় লবিং তদবির শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। তবে জবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি রাজধানীর এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিজেদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে। 

তথ্য সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে এখন বিশ্ববিদ্যালয়েই সিনিয়র যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১০৫ জন অধ্যাপক আছেন। গ্রেড-১ পদমর্যাদায় আছেন ২৬ জন। তাদের মধ্যে অনেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীলদল পরবর্তী উপাচার্যের জন্য নিজেদের মধ্যে এক ডজনের বেশি একটি নামের তালিকা ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় জমা দিয়েছেন। এ তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ডিন, সাবেক ডিন, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, নীলদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের নাম রয়েছে। এছাড়াও কয়েকজন শিক্ষক ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, মন্ত্রীসহ বিভিন্ন জায়গা লবিং তদবির করছেন।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. নূরে আলম আব্দুল্লাহ্ বলেন, বর্তমান উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কিছু চিনে ফেলেছেন। সরকার তাকে যদি তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব না দেয় তাহলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে থেকেই যেন উপাচার্যের দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৫ বছর বয়স এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সিনিয়র শিক্ষক ও যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন উপাচার্য হিসাবে দায়িত্ব নেয়ার।

নীলদলের একাংশের সভাপতি অধ্যাপক জাকারিয়া মিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে আমারও দাবি থাকবে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেন উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষকদের মধ্যে থেকে অনেকে উপাচার্য হওয়ার মত যোগ্য রয়েছেন। সরকার যোগ্যদের থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ দিবেন।

নীলদলের আরেকাংশের সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, সরকার যাকে ইচ্ছে তাকেই উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ দিবেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক যোগ্য শিক্ষক রয়েছেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিক উন্নয়ন হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, ১৫ বছরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পথ এগিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শতাধিক অধ্যাপক আছেন যাদের মধ্য থেকে অনেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হওয়ার মত যোগ্যতা রাখেন। তাদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হউক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হলে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার সুখ-দুঃখ বেদনা সমস্যা বুঝতে পারবেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজ করবেন।

ছাত্র ইউনিয়ন জবি সংসদের সভাপতি কে এম মোত্তাকি বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক দক্ষ প্রশসক ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষক রয়েছেন। তারাও উপাচার্য হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। সরকারের উচিৎ হবে শিক্ষার্থীবান্ধব ও যোগ্য একজনকে উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ দেয়া।

ছাত্র অধিকার পরিষদ জবি শাখার সভাপতি রাইসুল ইসলাম নয়ন বলেন, আমরা আর ভাড়াটে উপাচার্য চাই না। বর্তমান উপাচার্য ড. মীজানুর রহমানের সময় আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সব অধিকার আদায় করে নিতে হয়েছে। আমরা এ উপাচার্যকে আর চাই না। আমরা জগন্নাথ থেকেই উপাচার্য চাই। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সুযোগ সুবিধা সমস্যা সম্পর্কে অবগত। তারাই শিক্ষার্থীদের সমস্যা ভাল বুঝবে।

প্যারিসের দাঙ্গায় মেসির আর্মব্যান্ড ‍ও সই করা জার্সি চুরি 
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
হোটেল সোনারগাঁও নিয়োগ দেবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার, আবেদন…
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষকদের বদলির অগ্রগতি জানালেন মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচ…
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
করপোরেট ব্যাংকিং বিভাগে নিয়োগ দেবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, আব…
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
বাংলা-ইংরেজি-সাধারণ জ্ঞানের জন্য কী পড়বেন, কোন বই পড়বেন?
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬
ফিদেল কাস্ত্রোর ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল…
  • ২০ অক্টোবর ২০২৬