জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য

২৫ আগস্ট ২০২০, ০৬:২২ PM

© লোগো

গত ২১ আগস্ট দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় যেন জাতীয় খেলা হাডুডু’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের (মতামত) প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। প্রকাশিত মতামতকে উদ্দেশ্যেপ্রণোদিত ও মানহানিকর অভিহিত করে বলা হয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য:
১) ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় যেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে না।’ লেখকের এই মতামতটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অনাকাঙ্খিত। কারণ এর সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মহান জাতীয় সংসদে ১৯৯২ সালের ৩৭ নম্বর আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত আইন সম্মত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। সুতরাং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংজ্ঞার মধ্যেই পড়ে না। লেখকের এ মন্তব্য মোটেও বিধি সম্মত নয়।

২) ‘বিশ্ববিদ্যালয় হতে তাকে গবেষণার মাধ্যমে নিয়ত জ্ঞান সৃষ্টি করতে হবে এবং একই সাথে জ্ঞান বিতরণ করতে হবে। প্রথমটিতেতো একদম শূন্য পাবে। অর্থাৎ এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে গবেষণার কোন সংযোগ নাই। দ্বিতীয়ত এর জ্ঞান বিতরণ কাজেও এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়োজিত না।’ লেখকের এই মন্তব্য মনগড়া এবং বাস্তবতা-বিবর্জিত। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে তার নূন্যতম ধারণা নেই। এই বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে কী কী কার্যক্রম পরিচালনা করছে তা তিনি জানেন না। না জেনে অহেতুক মন্তব্য লেখা লেখক হিসেবে দায়িত্বহীনতার পরিচয়ক। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২২৬০টি কলেজের মাধ্যমে স্নাতক, স্নাতক (সম্মান), স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৩৬টি ডিসিপ্লিনে নিয়মিত শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ২৯ লাখ ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত । দেশের উচ্চশিক্ষার ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষা গ্রহণ করছে৷ সুতরাং এই প্রতিষ্ঠানটি জ্ঞান বিতরণের সঙ্গে যুক্ত নয়-এ কথাটি মোটেও ঠিক নয়।

৩) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলো ছাড়াও মূল ক্যাম্পাসে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স অব এডভান্স স্টাডিজ ( এমএএস), এমফিল এবং পিএইচডি প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। এইসব কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে রীতিমতো ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করে গবেষক নির্বাচন করা হয় এবং আন্তর্জাতিক মান বজায়ে রেখেই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। বর্ণিত কোর্সসমূহে নিবন্ধিত গবেষকগণ জাতীয় উন্নয়নভাবনার সাথে সম্পৃক্ত ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীভূত গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে 'মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউট'। সুতরাং গবেষণায় এই প্রতিষ্ঠানটি শূন্য পাবে এটি মোটেও ঠিক নয়। বিদ্বেষপ্রসূত অবস্থান থেকেই এই মন্তব্য করা হয়েছে।

৪) ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আসলে মানহীন কাগুজে সার্টিফিকেট বিতরণ কেন্দ্র।’ মর্মে যে মন্তব্য করা হয়েছে সেটি সঠিক নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ ও মূল ক্যাম্পাসে নির্দিষ্ট কোর্স কারিকুলামের ভিত্তিতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে এবং নির্ধারিত ক্রেডিট অনুযায়ী কোর্স সম্পন্ন করার পর পরীক্ষা গ্রহণ ও যথাযথ মূল্যায়নের পরেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। সুতরাং লেখকের মন্তব্য অকল্পনীয় ও বেমানান।

৫) ‘বাংলাদেশের শিক্ষার মানকে ক্রমেই নামিয়ে দেওয়ার পেছনে এর ভূমিকা অকল্পনীয়।’ মর্মে যে মতামত দেয়া হয়েছে সেটিও লেখক হিসেবে অপেশাদারিত্বের পরিচায়ক ও অনুসন্ধিৎসু সত্তার বিপরীত। শিক্ষার মান উন্নয়নে বাংলাদেশের আর কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষে এক হাজার ৪০ কোটি টাকার সিইডিপি প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ১৬ হাজার কলেজ শিক্ষককে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ার নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই মূল নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ইতোমধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বিভিন্ন কলেজের ২৯ জন শিক্ষক মালয়েশিয়ার নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলভাবে ডিগ্রি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন যা বাংলাদেশের কলেজ শিক্ষার ইতিহাসে মাইলফলক।

৬) ‘এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেটি ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে নানা রকমের ফি নিয়ে বিশাল অর্থ আয় করে কেবল ধনীই হচ্ছে কিন্তু ছাত্রছাত্রীদের গবেষণা ও মান সম্পন্ন পাঠদানে ওই টাকার একটি অংশও ব্যয় করছে না।’ এই মন্তব্যও ঠিক নয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শুরু থেকেই দেশের কলেজ শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে। এ কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়। এছাড়াও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নকল্পে নিজস্ব অর্থায়নে কলেজ র‌্যাংকিং, শতবর্ষী কলেজ ও মডেল কলেজ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। কলেজ শিক্ষক ও গবেষকদের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ অর্থ বছরের রাজস্ব বাজেটে ৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এবং আগামী ৩ বছরের জন্য গবেষণা খাতে প্রাক্কলন করা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মডেল কলেজ প্রকল্পের আওতায় মেধাবী শিক্ষার্থী এবং অস্বচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

৭) ‘তারা পারতো তাদের নিজস্ব একটি টিভি চ্যানেল খুলতে যার মাধ্যমে তৃতীয়, চতুর্থ বর্ষের এবং মাস্টার্সের বিভিন্ন কোর্সের উপর দেশ বিদেশ থেকে অভিজ্ঞ শিক্ষক নিয়োগ করে পাঠদান করতে।’ লেখক হয়তোবা অবগত নয় যে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মালয়েশিয়ার নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে তৈরি করে আনা হচ্ছে এবং একই সঙ্গে মালয়েশিয়ার নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ ঢাকায় এসে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। যা বাংলাদেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়েও চালু নেই।

শুধু তাই নয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এই বৈশ্বিক করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে শিক্ষাকার্যক্রম সচল রাখতে একটি স্বতন্ত্র ই-লার্নিং দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেছে। অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ১৫০০ বিভিন্ন কোর্সে অনলাইনে পাঠদানের জন্য দেশের ১৫০০ জন অভিজ্ঞ শিক্ষকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার ক্লাশের অডিও এবং ভিডিও ধারণ করে অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকগণের মাধ্যমে অনলাইন কনটেন্ট তৈরি, ভিডিও ক্লাশ আপলোড এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে পৌঁছানোর জন্য ২০২০-২১ অর্থ বছরের রাজস্ব বাজেটে ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের বক্তব্য: এটি একটি মতামত, যেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন লিখেছেন। এটি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসের তৈরি করা কোন প্রতিবেদন নয়।

ঢাবিতে প্রতি শনিবার ‘ক্যাম্পাস ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচি পালন কর…
  • ২৪ অক্টোবর ২০২৬
গোপালগঞ্জ জেলা আ.লীগ থেকে পদত্যাগ করলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম…
  • ২৪ অক্টোবর ২০২৬
বাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে বাবা-মেয়ের মৃত্যু, বাসে আগুন
  • ২৪ অক্টোবর ২০২৬
মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরসহ ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ অধ্যক্ষের
  • ২৪ অক্টোবর ২০২৬
গুগলের ডেটা সেন্টারে যোগ দিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬
বিয়ের ২০ দিনের মাথায় স্বর্ণালংকার নিয়ে গাড়িচালকের সঙ্গে পাল…
  • ২৩ অক্টোবর ২০২৬