© টিডিসি ফটো
ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ভয়াবহ মহামারি করোনা। কিন্তু ক্ষুধাতো আর মহামারি মানেনা। তারপরও জীবিকার চেয়ে জীবনের মূল্য ঢের বেশি। তাই অনিচ্ছায় বেকার বেশিরভাগ মানুষ, অনেকেরই সঞ্চয়ের টাকাও শেষ। দিনে এনে দিন খাওয়া মানুষের জন্য এ পরিস্থিতি কতোটা ভয়াবহ সে অভিজ্ঞতা ভুক্তভোগী ছাড়া বুঝানো কঠিন। তাই সে-সব কর্মহীন, পিছিয়ে পড়া, মানুষের পাশে দাঁড়াতে শিল্পকর্ম তৈরি করে বিক্রি করার উদ্দোগ নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদের কিছু শিক্ষার্থী।
ব্যতিক্রমী সেই উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে 'ক্ষুধা নির্মূলে আঁকছি'। প্রথম অবস্থায় ৭-৮ জন মিলে শুরু করলেও সময়ের সাথে যুক্ত হয়েছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেকেই। এখন প্রায় ২০-২৫ জনের মত শিল্পী কাজ করছেন তাদের সাথে।
আঁকছি'র মূল উদ্দোক্তারা হলেন আতিকুল হক ইমরান, রাহুল দেবনাথ,আব্দুল্লাহ আল মাহিন, তৃষা সুপ্তি, বৃন্ত দেব, আয়েশা বুশরাথ, তামিশা তাহরিমা, নাদিয়া রহমান। তারা সবাই রাবি'র চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী। তবে এখন তাদের সাথে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা যুক্ত হয়েছেন। যারা স্বদিচ্ছায় ক্ষুধা নির্মূলের জন্যে আঁকছে। প্রতিদিন সে তালিকায় নতুন নতুন শিল্পীরা যুক্ত হচ্ছেন।
চলতি মাসের ১৬ তারিখে কাজ শুরু করে প্রথম ৪ দিনেই ৪০ এর বেশি ছবি আঁকার অর্ডার পেয়েছেন তারা। আর এতে ফান্ডে যুক্ত হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার টাকার মতো।
সহায়তা করার বিষয়ে তাদের একজন আতিকুল হক ইমরান বলেন, কয়েকদিন পরেই শুরু হবে রমজান। মূলত রোজার মাসটায় কাজ হারানো মানুষের দূর্ভোগ অনেক বাড়বে। তাই রোজার শুরু থেকেই সাহায্য করা যায় কি না সেটা চিন্তা করছি। সাথেসাথে তহবিলের আকার বাড়লে প্রতি সপ্তাহের কালেকশন দিয়ে একেকটা এলাকা সহায়তা পৌঁছে দেয়ার বিষয়টা মাথায় নিয়ে আগাচ্ছি।
তিনি আরো জানান, ক্যাম্পাসে আমাদের ঘিরে যে মানুষ গুলো ছিলো, যারা এখন বসে আছে তাদেরকে আগে আমরা সহায়তা করবো । তবে তহবিল বড়ো হলে আমরা ক্যাম্পাসের বাইরেও যাবো। এক কথায় যতটুকু পারি অসহায় মানুষের পাশে দাড়াবো।
একেবারে সর্বনিম্ন মূল্যে যে কোন ধরনের শিল্পকর্ম গ্রাহকদের দিচ্ছে আঁকছি। শিল্পকর্মগুলো হচ্ছে,
১. ডিজিটাল (পোট্রেট/ক্যারিকেচার)
২. পেন্সিল স্কেচ/ কালিতুলি/ পেন স্কেচ
৩. ওয়াটার কালার/ এক্রেলিক কালার/ ওয়েল কালার/ প্রিন্ট
৪. অন্যান্য পেইন্টিং
৫. ক্রাফট
উদ্দোক্তারা জানান, তারা বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে টাকা পরিশোধের করা গ্রাহকদের কাছ থেকে শিল্পকর্মের অর্ডার নিচ্ছেন। আপাতত ছবির সফট কপি প্রেরণ করা হবে, মুল শিল্পকর্ম মহামারী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ডাকযোগে অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌছে দেবে।
আঁকছি'র উদ্দোক্তাদের আহবান, এই করুণ পরিস্থিতিতে আপনার ক্রয়কৃত একটি ছবি হতে পারে কোন অভুক্ত পরিবারের এক বেলার আহার।
টাকা পাঠানোর মাধ্যম-
বিকাশঃ ০১৭৬২৩৩৩৫৪০
রকেটঃ ০১৭৬৭৬৮২৭৯৪৭