উপাচার্যকে না পেয়ে বেরোবি শিক্ষকদের অভিনব প্রতিবাদ

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৫:৫৬ PM

© টিডিসি ফটো

বেশির ভাগ সময়ই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকেন না উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। ক্যাম্পাসে কখন আসবেন তাও জানেন না তার পিএস আমিনুর রহমান। তাই স্মারকলিপি দিতে গিয়ে উপাচার্যকে না পেয়ে তার দরজায় স্মারকলিপি সেঁটে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষকরা। উপাচার্যের সকল অন্যায়, অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে শিক্ষকদের সংগঠন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ ২১ দফা দাবী জানাতে গিয়ে উপার্যকে দপ্তরে না পাওয়ায় তারা দরজার সামনে স্মারকলিপি সেঁটে এই অভিনব প্রতিবাদ জানান তারা।

আজ মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় স্মারকলিপি ঝুলানোর সময় সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ এর আহব্বায়ক ড. মতিউর রহমান, শিক্ষক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং অধিকার সুরক্ষা পরিষদের সদস্য সচিব খায়রুল কবীর সুমন এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ।

এসময় তুহিন ওয়াদুদ বলেন, বেরোবি উপাচার্যের ক্যাম্পাসে দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ছাত্র শিক্ষকদের দাবী ও নানামুখী প্রতিবাদ তিনি কর্ণপাত করছেন না। অধিকার সুরক্ষা পরিষদ উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেওয়ার আগে তার পিএস আমিনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে উপাচার্য কবে কখন আসবেন তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। এমনকি ক্যাম্পাসে আসার পরও উপাচার্য শিক্ষক নেতাদের সাথে দেখা করবেন কিনা উপাচার্যের পিএস সে বিষয়েও নিশ্চিত নন। সেজন্যই তারা উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশের দরজার সামনে স্মারকলিপি সেঁটে দিয়েছেন। উপাচার্য যেদিনেই ক্যাম্পাসে আসুক, তিনি যেন স্মারকলিপিটির দাবীগুলো দেখে প্রবেশ করেন তাই এই অভিনব প্রতিবাদ।

স্মারকলিপিতে যেসব দাবী তুলে ধরা হয়েছে
রাষ্ট্রপতির শর্তানুযায়ী সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা থাকলেও উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ সালের ১৪ জুনে যোগদানের পর ক্যাম্পাসে দিনের দিন অনুপস্থিত থেকে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভেঙে স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে সীমাহীন অন্যায়-অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। এমনকি উপাচার্যের উত্তরসূরী হিসেবে রেজিস্ট্রার এবং প্রকল্প পরিচালকও অনুপস্থিত থেকে লক্ষাধিক টাকা বেতন তুলছেন। এছাড়াও উপাচার্য একাধিক অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, ট্রেজারার এবং ইনস্টিটিউটের পরিচালকের পদ আকড়ে রেখেছেন। যার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এসবের কারণে বিশ^বিদ্যালয়ের সমস্ত কাজে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে অর্ধ শতাধিক কোর্স পড়ানোর জন্য দায়িত্ব নিলেও কোনো কোর্সই না পড়িয়েই কর্মচারীদের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ করে লাখ লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন। অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে ৭টি বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির সদস্য হয়েছেন। এমনকি নন-একাডেমিশিয়ান, উপাচার্যের মা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালের উপ-উপচার্য আবুল কাশেম মজুমদারকে সদস্য একাধিক নিয়োগ বোর্ডের সদস্য বানিয়েছেন।

এছাড়াও কর্মচারী নিয়োগের বোর্ডে উপাচার্যের একান্ত সচিবকে আহ্বায়ক এবং উপাচার্যের পিএকে সদস্য সচিব করেছেন। অবসর গমনের বয়স সীমাতেও লোক নিয়োগ দিয়েছেন। এমনও হয়েছে যত জনকে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে ততজনই আবেদন করেছেন, ততজনকেই নিয়োগ দিয়েছেন।

উপাচার্যের এমন কাজে রাষ্ট্রীয় আইন পদদলিত, একাডেমিক দূর্নীতিতে শিক্ষার্থীবৃন্দ শিক্ষা বঞ্চিত এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও তার দায়িত্ব জ্ঞানহীনতায় সরকারের সর্বস্তরের উন্নয়ন পরিকল্পনা হতে বিশ্ববিদ্যালয় চূড়ান্তভাবে বঞ্চিত হওয়ার কথাও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও শেখ হাসিনা হল ও ড. ওয়াজেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিশেষ প্রকল্পের কাজ ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও উপাচার্যের পরিচালনায় পরিচালিত কাজের গতিহীনতায় হাজার হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষা সুবিধা বঞ্চিত হয়ে চলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যেকোন অন্যায়, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে ভূমিকা পালন করার প্রত্যয়ে ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে এসবের মধ্যে আচার্য কর্তৃক প্রদত্ত নিয়োগশর্ত অনুযায়ী সার্বক্ষণিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করা, ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে বি-ইউনিটের অভিযুক্ত ভর্তি জালিয়াতির প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে অপরাধী ব্যক্তির শাস্তি দেওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, নিয়োগ বোর্ড, অর্থ কমিটির সভাসহ সকল প্রকার সভা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করা, অনুষদে উপস্থিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৯ অনুযায়ী যোগ্য এবং যোগ্য শিক্ষককে ডীন ও বিভাগে উপস্থিত যোগ্য শিক্ষককে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব প্রদান করা, আইন ব্যত্যয় করে যে সকল বিভাগে বিভাগীয় প্রধান নিযুক্ত করা হয়েছে সে সকল ক্ষেত্রে নিয়োগপত্র সংশোধন করে আইন অনুযায়ী সে পদে পুনঃনিয়োগ দেওয়া, সকল বিভাগে বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী বিভাগীয় প্ল্যানিং কমিটি গঠন করা এবং যে সকল বিভাগে আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে তা সংশোধন করে প্ল্যানিং কমিটি পুনঃগঠন করা, অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ করে আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নিয়োগ বোর্ড গঠন ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লিখিত পরীক্ষা নিয়োগ বোর্ডের সকল সদস্যের অংশগ্রহণের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য পদ্ধতিতে সম্পন্ন করাসহ মোট ২১ দফা দাবি তুলে ধরেন।

‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে মজা করে বলছিলেন, তুমি আবার যাবা আমার স…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্ত্রী
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
৫৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে চালু হবে তৃতীয় ভাষা ইনস্টিটিউ…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
পে-স্কেল শিক্ষকদের দরকার, দাবি অ্যাড্রেস করার দায়িত্ব আমার:…
  • ২৭ অক্টোবর ২০২৬
এবারই আরও ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলাম: শিক…
  • ২৭ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষকরা বেতনও নেবে সরকারের বিরুদ্ধে কটূক্তিও করতেই থাকবে—ই…
  • ২৭ অক্টোবর ২০২৬