গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি নিয়ে দ্বিধায় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৮:৫০ AM

দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। শিক্ষামন্ত্রীও এর পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষার জন্য একটি খসড়া নীতিমালাও প্রণয়ন করা হয়েছে। যদিও সমন্বিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি দেশের বড় ও পুরনো বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

চারটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বিষয়ে এখনো দ্বিধায় রয়েছে। ইউজিসির পক্ষ থেকে ঘোষণা এলেও এসব বিশ্ববিদ্যালয় এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করতে পারেনি। এ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে স্বতন্ত্র ভর্তি পরীক্ষা নিতে চায়, যদিও গুচ্ছ পদ্ধতির পরীক্ষায় অংশ নিতে সরকারসহ বিভিন্ন মহলের চাপও রয়েছে।

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে সিদ্ধান্ত আগামীকাল একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে এখনো আমাদের সিদ্ধান্ত হয়নি। ৪ ফেব্রুয়ারি একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করা হয়েছে, সেখানে বিষয়টি উত্থাপন করা হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এছাড়া এ বিষয়ে ৭৩-এর অ্যাক্ট অনুসারে চলা চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমত হওয়ার ব্যাপার আছে, বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। সবার সিদ্ধান্তের ওপরই বিষয়টি নির্ভর করছে।

ইউজিসির ঘোষণার পর থেকেই এ সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক। যদিও এখন পর্যন্ত গুচ্ছ পদ্ধতির পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রক্রিয়া অনুসৃত হচ্ছে। এখন যদি নতুন কোনো পদ্ধতি আনতে হয়, সেক্ষেত্রে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সিন্ডিকেট, সিনেট, ডিনস কমিটিসহ বিভিন্ন ধরনের ফোরাম রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন ধাপে আলোচনার মাধ্যমে সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। হুট করে কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নেয় না। তাই সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নিয়েও আলোচনার সুযোগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

ইউজিসির সঙ্গে অনুষ্ঠিত সভায় গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিপক্ষে অবস্থান ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় একমত হলে এ প্রক্রিয়ায় আসতে মত রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩-এর অধ্যাদেশে চলে। ঢাকায় ইউজিসির সঙ্গে বৈঠকে বলেছি, আমরা গুচ্ছ পদ্ধতিতে যেতে পারব না। আমাদের একেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিন, সিলেবাস একেক রকম। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হলে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষায় যেতে আমরা রাজি আছি। মহামান্য রাষ্ট্রপতিরও এক্ষেত্রে নির্দেশনা রয়েছে। তাই সবাই যদি চায় আমাদের আপত্তি নেই।’

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা বিষয়ে দ্বিধায় রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ও (বুয়েট)। এ বিষয়ে আলোচনা করতে আজ ইউজিসি সদস্যদের সঙ্গে সভা করবে বুয়েটের একটি প্রতিনিধি দল। এছাড়া সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধািন্ত নিতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ফের উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠক ডেকেছে ইউজিসি। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসির সদস্য ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় শুরুতে সমন্বিত ভর্তি প্রক্রিয়ায় আসতে রাজি হয়নি, আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। বুয়েটের একটি প্রতিনিধি দল কাল ইউজিসিতে আসবে। এছাড়া ১২ ফেব্রুয়ারি ১৩টি বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চূড়ান্তভাবে বসবে ইউজিসি। ওইদিনই বলা যাবে, এ প্রক্রিয়ায় কারা থাকছেন বা থাকছেন না। তবে আমরা চাই, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এ প্রক্রিয়ায় আসুক।’

ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
আপাতত থেমে গেলাম, বারবার পোস্ট ও আলোচনা সময় এবং সম্মান—দুটো…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ বছর পর অসুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন ইরাকপ্রবাসী, ডাক্তার দে…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে মজা করে বলছিলেন, তুমি আবার যাবা আমার স…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
স্বামীকে বাঁচাতে নিজের কিডনি দিলেন স্ত্রী
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬
৫৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে চালু হবে তৃতীয় ভাষা ইনস্টিটিউ…
  • ২৮ অক্টোবর ২০২৬