হাফেজ তাশরীফ
হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ © সংগৃহীত
বাবা-মায়ের অভিযোগ ও সাম্প্রতিক আলোচনা নিয়ে আপাতত আর কথা বলতে চান না বলে জানিয়েছেন হাফেজ জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। বারবার পোস্ট ও আলোচনা সময় এবং সম্মান—দুটোই নষ্ট করে উল্লেখ করে এ বিষয়ে আপাতত থেমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তাশরীফ।
ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আপাতত থেমে গেলাম। ইনশাআল্লাহ, এ বিষয়ে আর কথা বলব না। তবে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙলে হয়তো বলতে হবে। বারবার পোস্ট ও আলোচনা সময় এবং সম্মান—দুটোই নষ্ট করে। সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ পাক যেন সকল ফিতনা ও ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন। আমিন।’
সম্প্রতি তাশরীফকে ঘিরে তাঁর মা-বাবার পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাশরীফের মা দাবি করেছেন, তাঁর বাবা ১৭-১৮টি বিয়ে করেছেন। একই সঙ্গে ছেলের বিরুদ্ধে বাবার তোলা অভিযোগগুলো সত্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: ‘আমার স্বামী ১৭-১৮টা বিয়ে করেছে’— হাফেজ তাশরীফের মা
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) একটি ফেসবুক পেজে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাশরীফের মা বলেন, ‘তাশরীফের বাবা অনেকগুলো বিবাহ করেছে। আমি আসার সময় ৭-৮টা বিবাহ করেছে। আমি আসার পর জানতে পারি তিনি ১৭-১৮টা বিয়ে করেছেন।’
ছেলের বিরুদ্ধে বাবার বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাশরীফের বাবার কথাগুলো সত্যি না। এটা মিথ্যা। যেহেতু তার ছেলে এতটুকু উপরে উঠছে, সে চায় না তার ছেলে উপরে থাকুক। কখনো যদি চাইতো, তাহলে তার ছেলের সঙ্গে মিলে সুন্দরভাবে চলাচল করতো। কিন্তু সে অনেক লোকের মন্তব্য শুনে শুনে চলে।’
এর আগে তাশরীফের বাবা অভিযোগ করেন, অসুস্থ অবস্থায় তিনি ছেলের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না। ছেলের চিকিৎসার খরচ চালাতে মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাশরীফের বাবা বলেন, ‘সে আজকে আমার খোঁজ-খবর লয় না, আমারে সে দেহেনা, আমারে টাকা-পয়সা দেয় না, আমি কষ্টের ভিতরে আছি। মানুষের কাছে ভিক্ষা কইরা কইরা অনেকদিন পর হাসপাতালে আমি চিকিৎসা কইরা তারে আল্লাহ মুক্তি করছে। সে এত টাকা কামাই করে, এত টাকা মানুষের পিছনে ফেলায়, সে আমারে টাকা দেয় না চিকিৎসার জন্য।’
ছেলের বন্ধুদের পেছনে টাকা খরচ করলেও নিজের জন্য সামান্য সহায়তাও পান না বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘তার বন্ধুবান্ধব—তাগরে গোশত দেয়, দিতে পারে; এক টুকরা গোশত আমারে দিল না।’
তাশরীফকে ঘিরে এর আগে মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়। ওই ঘটনায় সংবাদ সম্মেলনে তাশরীফ বলেছিলেন, ‘উনি চুমু দেয় নাই, দেওয়ার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যতটুকু অপরাধ, শাস্তি ততটুকু হতে পারে।’ একই সঙ্গে কোনো একজন শিক্ষকের অপরাধের দায়ে পুরো মাদ্রাসাকে দায়ী করা বা সেখানে ভাঙচুরের বিরোধিতা করেন তিনি।