জাবিতে তিন ছাত্রীসহ ১২ জনকে বেধড়ক পিটিয়েছে ছাত্রলীগ

০৫ নভেম্বর ২০১৯, ০১:০২ PM

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। এঘটনায় ১২ জন গুরুতর আহত হযেছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিন ছাত্রী ও ৯ ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, 'দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর' ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ে টানা নবম দিনের মতো আজ মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। তারা সকালে উপাচার্যের বাসভবন অবরোধ করলে সেখানে আসেন উপাচার্যপন্থী কয়েকজন শিক্ষক। তারা আন্দোলনকারীদের সাথে বাকবিতন্ডা করে চলে যাবার পর বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। তারা অনেক নারী কর্মীদেরও ধরে নিয়ে চড় লাথি মারতে মারতে নিয়ে যায়। তারা বলেন, হামলাকারীরা ভিসি ফারজানা ইসলামের পক্ষ হয়ে উপাচার্যপন্থী শিক্ষকদের প্ররোচনায় এই হামলা চালিয়েছে। তারা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

 পড়ুন: ছাত্রলীগ গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়ে আমাকে মুক্ত করেছে: জাবি ভিসি

আন্দোলনকারীরা বলছেন, উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। অন্যদিকে, উপাচার্য ফারজানা ইসলামের পক্ষে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছেন বেশ কয়েকজন শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ অবস্থায় ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা সাতটা থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে রাখেন। যত দিন না উপাচার্যকে অপসারণ করা হবে, তত দিন অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। আজ বেলা ১১টায় আন্দোলনকারীরা যখন উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলেন, তখন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকেরা সেখানে যান। তাঁরা আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তুলে দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনে ঢোকার চেষ্টা করেন। তবে আন্দোলনকারীদের বাধার মুখে তাঁরা উপাচার্যের বাসভবনে ঢুকতে পারেননি।

পড়ুন: ছাত্রলীগের হামলায় জাবি বন্ধ ঘোষণা, হল ছাড়ার নির্দেশ

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এর কিছুক্ষণ পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ব্যানারবাহী একটি মিছিল সেখানে আসে। ওই মিছিলে দুই শতাধিক নেতা-কর্মী ছিলেন। মিছিল থেকে উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়। মিছিলকারীরা উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের সেখান থেকে হটিয়ে দেন। তারপরে তাঁরা ওই জায়গায় অবস্থান নেন।

এরপর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও তাঁর সমর্থক শিক্ষকদের নিয়ে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম পুরোনো প্রশাসনিক ভবনে তাঁর নিজ কার্যালয়ে যান। সেখানে পাঁচ মিনিট থাকার পর তিনি নতুন প্রশাসনিক ভবনের কাউন্সিল কক্ষে যান। সেখানে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো হামলা হয়নি। ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে আন্দোলনকারীদের আমার বাসভবনের সামনে থেকে সরিয়ে দিয়েছে।’

পড়ুন: মহিলা সদস্যসহ ৩০০ পুলিশ চেয়েছে জাবি

ঢাবি নিয়ে এমপি ফজলুর বক্তব্য বিএনপিও দায় এড়াতে পারে না: ডাক…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
স্বামীকে কারামুক্ত করার আশ্বাসে ঘরে ঢুকে নারীকে যুবদল নেতার…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
লংমার্চের প্রচারণাকালে স্ট্রোকে জামায়াত নেতার মৃত্যু
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
মার্কিন বাণিজ্যচুক্তিসহ অসম বৈদেশিক চুক্তি বাতিলের দাবি, প্…
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
বর্ণিল আয়োজনে আইএসইউতে নবীনবরণ, নতুনদের পদচারণায় উৎসবের আমেজ
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন অমানুষদের জায়গা: বিএনপির এমপি ফজলুর …
  • ৩০ অক্টোবর ২০২৬