অসম বৈদেশিক চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট © সংগৃহীত
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্যচুক্তি, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়াসহ সব অসম বৈদেশিক চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। একই সঙ্গে ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন, সুন্দরবন ধ্বংস করে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক জোটে বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করার তৎপরতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত কেন্দ্রীয় সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশে ঘোষণা করা হয়, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না হলে ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল এবং স্মারকলিপি পেশ করা হবে।
জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জোটের কেন্দ্রীয় নেতা সাজ্জাদ জহির চন্দন, শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, ইকবাল কবির জাহিদ, ডা. মুশতাক হোসেন, মাসুদ রানা, মোশরেফা মিশু, হারুনার রশীদ ভূঁইয়া, রজত হুদা, আব্দুল আলী, শিবলুল বারী রাজু, সৈয়দ হারুন অর রশীদ ও শহীদুল ইসলাম। সমাবেশ পরিচালনা করেন আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ বামপন্থি নেতা মঞ্জুরুল আহসান খান, খালেকুজ্জামান, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মো. শাহ আলম, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, কবি মোহন রায়হানসহ বিভিন্ন ছাত্র, যুব, নারী, শ্রমিক, কৃষক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা। সমাবেশে জোটের লিখিত ঘোষণা, প্রস্তাবনা ও আন্দোলনের কর্মসূচি তুলে ধরেন বজলুর রশীদ ফিরোজ।
সমাবেশে নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি করেছে, তা দেশের অর্থনীতি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার জনমত উপেক্ষা করে ওই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটও চুক্তির বিরোধিতা না করে কার্যত একে সমর্থন করছে। তাঁদের ভাষ্য, বাম, প্রগতিশীল, দেশপ্রেমিক ও গণতান্ত্রিক শক্তির নেতৃত্বে গঠিত সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটই এ চুক্তি বাতিলের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নেতারা বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের বিভিন্ন টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার ধারাবাহিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মতে, দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার বন্দর বিদেশি কর্তৃত্বে চলে গেলে জাতীয় অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্বের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
নেতারা আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দেওয়া হলেও বর্তমানে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দেওয়া সরকার ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাঁদের অভিযোগ, একদিকে দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরোধিতার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বড় প্রকল্পের চুক্তি ও কাজের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভারতীয় কোম্পানিকে ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার বিষয়টিও তাঁরা সমালোচনা করেন।
বক্তারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির কাছে নতজানু শাসকগোষ্ঠীর কারণে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে না। এক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রভাব থেকে বেরিয়ে অন্য শক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে প্রকৃত জাতীয় স্বার্থ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। দেশ, জনগণ ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার করার কথা বলেন।
সমাবেশ থেকে আগামী দুই মাস জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, পদযাত্রা ও গণসংযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় কেন্দ্রীয় সমাবেশ শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি পেশের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।