চট্টগ্রাম নগরের প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রোমিও। তার বাবা রাশেদ করিম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রকৌশল দপ্তরের সেকশন অফিসার। সেই সুবাধে তিনিও থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ভর্তি পরীক্ষায় দূরদূরান্ত থেকে আগত বিভিন্ন গাড়ী, কার কিংবা সিএনজি থেকে চাঁদা নিয়েছেন তিনি।
ভুয়া রশিদ দেখিয়ে চাঁদা আদায়কারী রোমিওকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ৷ সোমবার (২৮ অক্টোবর) বেলা এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন চত্বরের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়লেও তিনি নিজেকে শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক গ্রুপ ‘বাংলার মুখ’ এর কর্মী বলে দাবি করেন৷ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এর আগেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ে বেপরোয়া বাইক চালানোসহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনের পাশে রেলওয়ের জমিতে দড়ি দিয়ে পার্কিং জোন তৈরি করেন রোমিও। সেখানে পার্কিং করা গাড়িগুলো থেকে ভুয়া রশিদ দেখিয়ে চাঁদা নেন তিনি। এমনকি চাঁদা না দিলে রাস্তার পাশে সরকারী জায়গাতেও গাড়ি রাখতে না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এসময় এক গাড়িচালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ালে সাংবাদিকরা এর কারণ জানতে চাইলে চাঁদা নেয়ার কারন হিসেবে তিনি বলেন, রেলওয়ের জমি তার বন্ধুর বাবা ইজারা নিয়েছে। এবং তিনি বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে জায়গাটিতে পার্কিং জোন করেছে। পাশাপাশি রাস্তার পাশে কোন গাড়ি দাঁড়ালে যান চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে বলে সেগুলো সে সরিয়ে দিচ্ছেন তিনি। বিষয়টি পুলিশের দৃষ্টিগোচর হলে তাকে আটক করে।
সিএনজি চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোমিও তাদের সবাইকে ৩০ টাকা দিয়ে টোকেন নিয়ে গাড়ি পার্কিং করতে বাধ্য করছে। কেউ টোকেন না নিয়ে গাড়ি পার্কিং করতে চাইলে চলে যেতে বাধ্য করে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের বাংলার মুখের নেতা আমির সোহেল বলেন, প্রথমত অভিযুক্ত ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র না। কাজেই সে বাংলার মুখের কর্মী হওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে সে আমাদের পরিচিত ছোট ভাই। সে ছাত্রলীগ করে কিনা, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে যেহেতু প্রগতিশীল। কাজেই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ না করলেও হয়তো এলাকায় ছাত্রলীগ করতে পারে। তবে সে যেই হোক, অভিযোগ প্রমাণ হলে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে।
হাটহাজারি মডেল থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, রোমিও নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর প্রণব মিত্র চৌধুরী বলেন, সে আমাদের কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি। তাছাড়া সেটা রেলওয়ের জমি। পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।