চবিতে আন্ত:বিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব অনুষ্ঠিত

২২ অক্টোবর ২০১৯, ১০:২০ PM

© টিডিসি ফটো

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় বিতর্ক সংগঠন চিটাগং ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (সিইউডিএস) কর্তৃক আয়োজিত ‘ডিএনসি-সিইউডিএস আন্তঃবিভাগ বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০১৯’ এর সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২শে অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় চবির কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি মিলনায়তনে বিতর্ক প্রতিযোগিতার ফাইনাল রাউন্ড ও সমাপনী পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

এ পর্বে বিতর্কের বিষয় নির্ধারণ করা হয়, “সামাজিক সচেতনতা নাকি আইনের প্রয়োগ” কোন উপায়ে মাদক নির্মূল করা সম্ভব এই বিষয়ে দুইটি পক্ষ বিতর্ক করেছে। এতে দুই দলই তাদের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

এদিন বাংলা সংসদীয় বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির পক্ষে তথা বিরোধী দল ইংরেজি বিভাগ। চ্যাম্পিয়ন দলের ৩জন প্রতিনিধি হলেন, নুর ইসলাম বিপ্লব, অনিক আহমেদ এবং রাজেশ বিশ্বাস। বাংলা বিতর্কে শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হয়েছেন নুর ইসলাম বিপ্লব। এছাড়া রানারআপ হয়েছেন শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের আরিফ শাহরিয়ার, পূজা দে, শরীফুল ইসলাম জুনায়েদ।

এছাড়া ব্রিটিশ পার্লামেন্টারী ইংরেজি বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন হয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের রেদওয়ান জাকির অন্তু ও শাহরিয়ার চৌধুরী এবং রানার্স আপ হয়েছে মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের মরিয়ম জাহান ও ওমর খসরু সৌরভ। ফাইনালে অংশগ্রহণকারী অন্য দুটি দল ছিলো ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ও ফিন্যান্স বিভাগ।

এর আগে গত ১৮-১৯ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৫টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুইদিনব্যাপী এই বিতর্ক প্রতিযোগিতা-১৯ শুরু হয়। অনুষ্ঠিত এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মাদক বিরোধী সচেতনতাকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। উক্ত প্রতিযোগিতায় বাংলা বিতর্কে ২৭টি দল (৩ জন করে) ও ইংরেজি বিতর্কে ২৪টি দল (২জন করে) অংশগ্রহণ করেন।

এদিন বিতর্ক প্রতিযোগিতা চুড়ান্ত পর্ব শেষে দুপুর সাড়ে ৩ টায় একই স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় “জীবনকে ভালোবাসুন, মাদক হতে দূরে থাকুন” শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে দুপুর ১ টায় একটি র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, বিতর্ক জীবনকে উপভোগ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়। যুক্তিনির্ভর জীবন পরিচালনার জন্য বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। মাদক নির্মূলের বিষয়টি বিতর্কের মাধ্যমে খুব সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। ২১ শতকে এসে মাদক, ইয়াবা খুব সহজলভ্য হয়ে গেছে। যেটা আমাদের সময় ছিলো না। আজকের এই মাদকের উপর বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসা তথ্যগুলো হয়তো ভবিষ্যতে মাদক নীর্মুলে সহযোগিতা করবে।

বক্তারা আরও বলেন, বিতর্ক এখন শিল্পে পরিণত হয়েছে। বিতর্কের কারনে গুনগত জনসম্পদ তৈরি হচ্ছে। বিতার্কিকরা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে চলছে প্রতিনিয়ত। আমরা দেশের সমস্যাগুলোর সমাধান বিতর্কের মাধ্যমে তুলে ধরবো। আজকে যারা বিতর্ক সাথে যুক্ত রয়েছে তারা আগামীদিনে দেশের হাল ধরবে। বিতার্কিকরা কখনো পরাজিত হয় না। একজন বিতার্কিকের ভুল করার সুযোগ থাকে না।যা তার ভবিষ্যতেও সফলতায় সহায়ক হয়।

মাদকসেবন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে বিতার্কিকরা বলেন, এর জন্য আইন এবং সামাজিক সচেতনতা দুটোই প্রয়োজন আছে। কিন্তু মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এখন শুধু সচেতনতা দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব না। তাই আইনের প্রয়োগ প্রয়োজন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী ও চট্টগ্রাম জেলার উপ পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলাম বক্তৃতাকালে বলেন, বাংলাদেশের প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ মাদকের সাথে জড়িত। মাদক নির্মূলে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এর আগেও আমরা বেশ কিছু সেমিনার করেছি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। কারন তরুণরা এতে বেশি ঝুঁকে পড়ছে। সরকারী ভাবে তিনটি উপায়ে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়, যারা মাদকে আসক্ত হওয়ার পথে তাদেরকে সচেতন করে তোলা, মাদকদ্রব্য পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং যারা মাদকাসক্ত তাদের চিকিৎসা করা।

মাদকের ফলে শুধু মাদকাসক্ত ব্যক্তি নয় তার পরিবারও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সামাজিকভাবে আমরা যদি মাদকাসক্তদের সাথে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করি বা তাদেরকে পরিচয় না দেয়ার চর্চা শুরু করি, তাহলে হয়তো তাদের মধ্যে অনুশোচনা তৈরি হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ২০১৮ সালে তৈরি নতুন নিয়মে যেই ডোপ টেস্ট পদ্ধতি এসেছে। এটা মাদকাসক্তদের জন্য অনেক বড় একটি বাধা হয়ে উঠেছে। কারণ অনেক মেধাবীরাও এর ফলে আঁটকে যায়। চাকুরির ক্ষেত্রে সব পরীক্ষা ভালো করলেও শেষ ডোপ টেস্টে এসে আঁটকে যায়। কাজেই তরুণদের মাদক থেকে বিরত না থাকলে তার ক্যারিয়ারে এটা অনেক বড় প্রভাব ফেলবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি এবি এম আবু নোমান বলেন, চবির ওয়েবসাইটে এই সিইউডিএসের নাম উল্লেখ রয়েছে। যা আমাদেরকে সারাবিশ্বের মাঝে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই চমৎকার উপায়টি অবলম্বন করে আজ যদি আমরা মাদকের বিরুদ্ধে সচেনতা বৃদ্ধি করতে পারি, তাহলে মাদকের উপর এই বিতর্ক একটি কার্যকরি প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন তিনি।

পুরো অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবির আইন অনুষদের ডিন ও সিইউডিএসের মডারেটর এ বি এম আবু নোমান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের অদ্যাপক এ এফ এম আওরঙ্গজেব, কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সেকান্দর চৌধুরী। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান পাটোয়ারী, চট্টগ্রাম জেলার উপ পরিচালক এ কে এম শওকত ইসলাম ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এর সহপরিচালক শামীম আহমদ।

অনুষ্ঠানটির আহ্বায়ক হিসেবে ছিলেন সিইউডিএসের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন সুজন ও যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ছিলেন সিইউডিএসের দপ্তর সম্পাদক মরিয়ম জাহান সায়মা ও এসোসিয়েট রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল আস্আদ।

প্রতিযোগিতায় ইলেকট্রনিক মিডিয়া পার্টনার- সময় টিভি, অনলাইন মিডিয়া পার্টনার - বিডিনিউজ24ডটকম , প্রিন্ট মিডিয়া- বণিক বার্তা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।

এইচএসসির ফল প্রকাশ অনুষ্ঠান ১১টায়, শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
বিনা অনুমতিতে জুতাসহ প্রবেশ করুন—ইউএনওর দরজায় স্টিকার ভাইরা…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
গায়ক অন্তুর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তে বেরিয়ে এ…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রথম পোপ হিসেবে হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট দিলেন …
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, কপাল পুড়তে পারে এমপি আজিজের
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
দিনের বেলায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, রাতে দুই এমপির সমর্থ…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬