চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) উপাচার্যসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু পদে দায়িত্ব পালন করছেন ভারপ্রাপ্তরা। ফলে স্থবিরতা নেমেছে প্রশাসনিক কার্যক্রমে। গত চার মাস ধরেই অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার। এই চারমাসে কোনো সিন্ডিকেট ও একাডেমিক সভা হয়নি।
জানা যায়, চবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীর মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের জুন মাসে। এরপর গত ১৩ জুন অস্থায়ীভাবে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব পালনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড.শিরীণ আখতারকে মনোনীত করেন।
এদিকে, উপাচার্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে গেছে সীমানা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীর নির্মাণের কাজ। সদ্য বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইখতেখার উদ্দিন চৌধুরী ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে দীর্ঘ ১৩ কিলোমিটারের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। নির্মাণ কার্যক্রমের শুরুতে নানান হুমকির সম্মুখীন হলেও তৎকালীন প্রশাসন এসব মোকাবেলা করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যান। যা পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে গেছে বর্তমান উপাচার্যের আমলে।
গত ১৬ জুন সীমানাপ্রচীর নির্মাণ কমিটির সদস্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমানের অফিস কক্ষে তালা লাগিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয় একটি পক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরকে তাৎক্ষনিক মৌখিকভাবে অবহিত করেন। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারনে প্রধান প্রকৌশলীর পরামর্শে 'অফিস করতে পারছেন না' এ মর্মে ঘটনার ৯দিন পর রেজিস্ট্রার বরাবর একটি চিঠি দেন তিনি। এর পরেও রেজিস্ট্রার কে এম নুর আহমদ স্বাক্ষরিত একটি নোটিশে প্রকৌশলীর অফিসে না আসার কারণ দর্শাতে বলা হয়। তার প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মাহফুজুর রহমান কারণ দর্শালেও 'উত্তর সন্তোষজনক নয়' এ মর্মে একটি নোটিশ দিয়ে জুলাই মাস থেকে তার বেতন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত ৭ জুলাই সীমানাপ্রচীর নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসএস অনন্ত বিকাশ ত্রিপুরার প্রতিনিধিদের হুমকি দিয়েছে একটি পক্ষ। ফলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করে পত্র দিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি। এ বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন বলছেন দায়িত্ব প্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার।
এছাড়াও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে প্রণব মিত্র চৌধুরীকে। সমগ্র প্রক্টরিয়াল বডিকেও নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এদিকে পুরো সেপ্টেম্বর জুড়ে শাটলট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় শিক্ষার্থীরা গত ২১ সেপ্টেম্বর মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদের ডিন নির্বচনও করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। অথচ ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসেই শেষ হয়েছে সাত অনুষদের ডিনদের মেয়াদ। যদিও সে সময় উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। তিনি অবশ্য ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তি সংক্রান্ত কারণ দেখিয়েছিলেন তখন। যার ফলে মেয়াদোত্তীর্ন ডিনের বয়স এখন ৯ মাস। সর্বশেষ দুই বছর মেয়াদি ডিন পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারিতে।
এছাড়াও ডাকসু নির্বাচনের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের গুঞ্জন শোনা গেলেও উপাচার্যের পালাবদলে চাকসুর আলাপচারিতাও মিটে গেছে। চলতি বছরের ২১ মার্চ চাকসুর ৫ সদস্যের একটি নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটি গঠন করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। তবে এ নিয়ে এখন কিছুই ভাবছেন না রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড.শিরীণ আখতার। তিনি বলছেন স্থায়ী দায়িত্ব পেলে এ সকল বিষয় গুছিয়ে নেওয়া হবে।
এছাড়াও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক গোলাম কবীরকে কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই হঠাৎ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকালে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযুক্ত শিক্ষক মাইদুল ইসলামের পক্ষে মানববন্ধন করা একাধিক শিক্ষককে বিভিন্ন পদে স্থান দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে।