ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি © সংগৃহীত
উৎসবমুখর পরিবেশে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত ঐতিহ্যবাহী কবি নজরুল সরকারি কলেজে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘শরৎ উৎসব ও নবীন বরণ-২০২৬’।
‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’ স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর দেড় টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক।
শরৎ উৎসব ও নবীন বরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মাহমুদা আখতার, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাহমিনা হক সহ বাংলা বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম, সদস্য সচিব মো. নাজমুল হাসান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কে এম সিরাজুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কামরুল ইসলাম কানন সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বাংলা বিভাগের অধ্যয়নরত বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী ও নবীন শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে বাংলা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সমিতির দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বিপ্লব শেখ শরৎ নিয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে নবীনদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমরা আজ থেকে বাংলা সাহিত্য পরিবারের সদস্য। তোমাদের নিজেদের নতুন করে আবিষ্কার করার এটাই উপযুক্ত সময়। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তোমাদের তুলনামূলক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না দেশ, সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সমকালীন বিশ্ব সম্পর্কে জানতে হবে।’
কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমদ ফাহিম আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলা বিভাগের আজকের এই আয়োজন সত্যিই মনোমুগ্ধকর। শরতের আগমন যেন এক নববধূর মতো, যার সকালটা অত্যন্ত সুন্দর। ২০২৫-২৬ সেশনের নবীনরা খুবই ভাগ্যবান, কারণ এত সুন্দর নবীন বরণ উৎসব আগে দেখা যায়নি। আমি রাজনৈতিক জায়গা থেকে চেয়েছি ক্যাম্পাসে যেন একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ থাকে, যেখানে সবাই নির্দ্বিধায় উৎসব উপভোগ করতে পারে।’
অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মাহমুদা আখতার বলেন, ‘শিক্ষকদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস হলো শিক্ষার্থীদের হাসিমুখ। ছেলে-মেয়ে সবাই একসঙ্গে থাকবে, একে অপরকে সম্মান করবে। আমাদের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে যেন কোনো বিভেদ না থাকে।’
শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ উপস্থিত সকলকে শুভকামনা জানিয়ে বলেন, ‘শরতের কবিতাগুলো শুনে আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল। অনেক আনন্দ লাগছে, যা সারাদিন আমার মধ্যে জাগ্রত থাকবে। এই ভালোলাগা নিয়েই আজকের দিনটি তোমাদের সাথে কাটুক।’
অনুষ্ঠানে কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক নবীনদের দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘তোমাদের বাবা-মায়েরা অনেক কষ্ট করে তোমাদের পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছেন। তাই তোমাদের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত ভালো রেজাল্ট করা এবং একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা।’
গ্রামের প্রকৃতির কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামে শরতের পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর, তবে তা উপভোগ করার মানুষ কমে যাচ্ছে। কারণ সবাই এখন মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত।’
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, গান এবং মনোরম সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে পুরো অডিটোরিয়ামে শরতের এক অপূর্ব আবহ তৈরি হয়। আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।