অস্ত্র হাতে বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদলের নেতাকর্মীরা © টিডিসি সম্পাদিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়ার ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও ছবি বিশ্লেষণ করে তাদের পরিচয় পাওয়া গেছে। শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় ছাত্রশিবিরের জিয়া হল শাখার সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে থাপ্পড় দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে থাপ্পড় দেওয়ার কারণ জানা যায়নি।
এ ঘটনার পর শিবিরের নেতাকর্মীরা আলীনুরের কক্ষে হামলা চালান। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাদের সরিয়ে দিয়ে দুই পক্ষকে নিয়ে হল অফিসে আলোচনায় বসেন। আলোচনার সময় জুহায়ের উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আলীনুরকে আনতে তার কক্ষে গেলে শিবিরের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে পুলিশের গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত হন।
বিকেল ৪টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদের কয়েকজনের হাতে দেশীয় অস্ত্র দেখা যায়। সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রদল প্রধান ফটকের তালা খুলে দেয়। এ সময় হামলায় শহীদুল ও বাবুল নামে স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী আহত হন। সন্ধ্যার পর পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বহিরাগতদের নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষের সময় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রবেশপথে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজনকে মহড়া দিতে দেখা যায়। পরে ওই ঘটনার ভিডিও ও ছবি সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ক্যাম্পাসসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার অন্তত ১৯ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পদমদী গ্রামের বিএনপি কর্মী মনোওয়ার ও ইমন বিশ্বাস, যুবদলের হামিম, সানওয়ার ও রাজিব, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার নিবিড় মন্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার ও সোহাগ রয়েছেন। এছাড়া ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সেক্রেটারি হৃদয়, ছাত্রদল কর্মী ও মদনডাঙা হাইস্কুলের এসএসসি-২০২৬ ব্যাচের রাইসুল এবং দশম শ্রেণির মিকদাদের পরিচয়ও পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়ার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের কোনো নেতাকর্মী জড়িত ছিলেন না। যারা অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়েছে, তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুনও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, ক্যাম্পাসের ভেতরের ঘটনার পর স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসেন। তখন স্থানীয় জনগণ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের প্রতিহত করে থাকতে পারেন।
মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, ক্যাম্পাসের জিয়ামোড়, দুই হলের পকেট গেট এবং হলগুলোর আশপাশে কারা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়েছিল, তা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত।
ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনুর রশীদ বলেন, সংঘর্ষের পর পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ অভিযোগ দেয়নি। অস্ত্রধারীদের শনাক্তে পুলিশের কার্যক্রম চলছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। হলের ঘটনা ছাড়াও এর আগে ও পরের সব বিষয় তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তারা ক্যাম্পাসে দায়িত্ব পালন করবেন।