তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে ‘জুলাই স্মৃতি আলোচনা সভা’ অনুষ্ঠিত © টিডিসি ছবি
জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, গণ-অংশগ্রহণের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে জুলাইয়ের চেতনা জাগ্রত রাখার লক্ষ্যে সরকারি তিতুমীর কলেজ সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে 'জুলাই স্মৃতি আলোচনা সভা' অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১১টায় কলেজের সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা জুলাই অভ্যুত্থানের তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর ইতিহাস সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এইচ এম মাহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আবু সাঈদ। এতে তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসাইন, সদস্য সচিব সেলিম রেজা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. সোহেল রানা, জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ইয়াসির আরাফাতসহ সাংবাদিক সমিতির উপদেষ্টা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাস, গণঅংশগ্রহণ, গণতান্ত্রিক চেতনা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই স্মৃতি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জুলাইকে কোনো একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে ধারণ করার আহ্বান জানান তারা।
তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইমাম হোসাইন বলেন, জুলাই সবার। এ দেশের সর্বস্তরের মানুষ জুলাইয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল। আমরা আন্দোলনের শুরু থেকেই এই আন্দোলনকে এক দফায় নিয়ে আসার চেষ্টা করেছি। ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার পরই সেটি সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আন্দোলন সফল হওয়ার পর একটি দল ২০২৪ সালের আন্দোলনকে নিজেদের সম্পদ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে।
ছাত্রদলের সদস্য সচিব সেলিম রেজা বলেন, একটি আন্দোলন থেকেই আরেকটি আন্দোলনের অনুপ্রেরণা আসে। জুলাই আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীরা মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গান গেয়ে আন্দোলনের চেতনাকে আরও শক্তিশালী করেছিল।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. সোহেল রানা বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, যারা ফ্যাসিবাদকে লালন করেছে তারা ধ্বংস হয়েছে। একইভাবে যারা আবার জুলাইকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করবে, জনগণ তাদেরও প্রত্যাখ্যান করবে।
জাতীয় ছাত্র শক্তির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাংবাদিক সমিতির উদ্যোগে প্রথমবারের মতো তিতুমীর কলেজের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন একত্রিত হয়েছে। এই ভ্রাতৃত্ববোধ অটুট রেখে আমরা সবাই মিলে কলেজের উন্নয়নে কাজ করব।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ইয়াসির আরাফাত বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪-কে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। জুলাইয়ের স্মৃতি ধরে রাখতে আরও বেশি আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এইচ এম মাহিন বলেন, 'জুলাইয়ে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে আমরা সংবাদ সংগ্রহ করেছি। সেই অভিজ্ঞতা ও আত্মত্যাগের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।