সভা বর্জন করে বেরিয়ে আসেন ঢাকা কলেজের শিক্ষকেরা © টিডিসি
ঢাকা কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি উপাচার্য ড. মো. নুরুল ইসলামের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসময় সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশের ধারা পড়তে এক শিক্ষককে বিরত থাকতে বলায় তাৎক্ষণিক সভা বর্জন করে ঢাকা কলেজের শিক্ষকেরা।
সভায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রমতে, রবিবার (২৬ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সংযুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের চলমান সংকট ও সমস্যার সমাধান বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. বোরহান উদ্দিনসহ সাত কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ।
মতবিনিময় সভার এক পর্যায়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষক আবুল কাশেম মোহাম্মদ জহুরুল হক সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের একটি অনুচ্ছেদ পড়তে শুরু করলে, আপাতত তা পড়া থেকে ওই শিক্ষককে বিরত থাকতে বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. মো. বোরহান উদ্দিন।
এতে সভায় উত্তেজনা ও হট্টগোল দেখা দেয়। ঢাকা কলেজের শিক্ষকেরা সভায় বর্জন করে অডিটোরিয়ামের বাহিরে বেরিয়ে যায়। ওই সময় উপাচার্য শিক্ষকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন ও সভায় উপস্থিত থাকা অনুরোধ জানান।
এ সময় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মো. নুরুল ইসলাম উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষকরা ভুল মেসেজ পেয়ে চলে গেছেন। ট্রেজারার বলতে চেয়েছেন যেহেতু শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, তাই তারা কথা বলুক। আগে তাদের কথা শুনে পরবর্তী সময়ে শিক্ষদের কথা শোনা হবে। আমরা শিক্ষক শিক্ষার্থী সবার কথা শুনে মন্ত্রণালয়ে এ বিষয় নিয়ে কথা বলব।’
ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষকে উদ্দেশ্য করে উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষকরা যারা চলে গেছেন, তারা ভুল মেসেজ পেয়েছেন। এই মেসেজটা ঠিক নয়। শিক্ষার্থীরা আজকে কথা বলুক, যেহেতু তারা আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সকল সংগঠন যারা আছে—সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক সংগঠন—তারা কথা বলুক, তাদের বক্তব্যগুলো দেখুক, তারপর শিক্ষকদের কথা বলার জন্য আহ্বান জানাব। আপনাদের জন্য কয়েক ঘণ্টা সময় নিয়ে আসছি, এমন তো না যে আধা ঘণ্টার মধ্যে মিটিং শেষ করছি।’
মতবিনিময় সভায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির বিষয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই যে এখন সিনারিওটা হলো, এই সিনারিওটা আসলে আমাদের জন্য খুব একটা পজিটিভ হয়নি। অধ্যক্ষ মহোদয়, আপনার মাধ্যমে ঢাকা কলেজের সম্মানিত শিক্ষকরা যারা ইনস্ট্যান্টলি রিঅ্যাক্ট করেছেন, তাদেরকে আমি অনুরোধ করব এখানে এসে বসে তাদের কথা বলুন, শুনুন। আজকে ইনস্ট্যান্ট আমরা সমাধান দিচ্ছি না। উভয় পক্ষের কথা শুনে আমরা মন্ত্রণালয়ে যাব।’