তিন দফা দাবি

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্তে অনড় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৭ AM , আপডেট: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ AM
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি সম্পাদিত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) কয়েকদিনের অচলাবস্থার পর প্রশাসনিক ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনের তালা খুলে দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হলেও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম এখনো স্থবির রয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোর তালা খুলে দেন। রাত ১০টার দিকে তালা অপসারণের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দাপ্তরিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং চলমান তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বাধা সৃষ্টি করতে তারা চান না। তবে তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষায় অংশ নেবেন না তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুলাই রাতে বিজয়’২৪ হলে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকসহ প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা দিয়ে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে প্রশাসন বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে।

এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি ডিসিপ্লিনে বিভাগীয় প্রধানরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসব সভায় শিক্ষকরা যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবির প্রতি সমর্থন জানান।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের আরও খবর: খুবিতে আন্দোলন: শিক্ষার্থী-প্রশাসন বৈঠকের পর ৪ দাবির অগ্রগতি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় উপাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার, বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক, প্রভোস্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয় এবং বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলের ডিন অধ্যাপক মো. আশরাফুল আলম ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক মো. নবীউল ইসলাম খানকে ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

ওই বৈঠকের পর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনগুলো খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে দাবিগুলোর বিষয়ে ইতোমধ্যে গৃহীত সিদ্ধান্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করে।

এদিকে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত ‘টু টু (Two Two)’ ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সব স্কুলের ডিন ও ডিসিপ্লিন প্রধানদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের দুই শিক্ষক প্রতিনিধি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে ভবনগুলোর তালা খুলে দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তিন দফা দাবি সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের আগে কোনো শিক্ষার্থী ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন না। পাশাপাশি স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি দাবি বাস্তবায়নের পর দ্রুত প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবি পূরণের আগে শিক্ষার্থীদের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্লাসে ফেরার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি না করারও অনুরোধ জানানো হয়।

এর আগে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং বিজয়’২৪ হলের ক্যান্টিন কর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে- ভিডিও ধারণের অভিযোগে অভিযুক্ত ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট বডিকে জবাবদিহির আওতায় আনা, যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছার ও অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা এবং ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাতে বিজয়’২৪ হলের ছাত্রীদের শৌচাগার ও গোসলখানার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যান্টিন কর্মী ইমাম হাসানকে আটক করে শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রীও গ্রেপ্তার হন।

এছাড়া গত ১৮ জুন অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে মেসেঞ্জারে অশালীন বার্তা পাঠানো ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এরও আগে গত বছরের আগস্টে বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক রুবেল আনছারের বিরুদ্ধে দুই ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগ সামনে আসে। উভয় ঘটনার পর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ছেন আজ, চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন বিদ…
  • ২৬ জুলাই ২০২৬
ব্যাংকের ম্যানেজারকে কষে চড় মারলেন সাবেক মন্ত্রীর মেয়ে
  • ২৬ জুলাই ২০২৬
ফেসবুকে কারা পাবেন ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ? জেনে নিন যোগ্যতার …
  • ২৬ জুলাই ২০২৬
পুরোপুরি রাজনীতিতে যুক্ত হবে কী ‘ককরোচ জনতা পার্টি’, যা বলল…
  • ২৬ জুলাই ২০২৬
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ, বজ্রসহ বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের আভাস
  • ২৬ জুলাই ২০২৬
৮ বছরে ৫ বার ফাইনালে ব্রাজিল, শিরোপা জিততে পারেনি একবারও
  • ২৬ জুলাই ২০২৬