ভবিষ্যতের কর্মবাজারে এআইভিত্তিক ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ হবে গেম চেঞ্জার: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

২০ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৩ AM
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য © টিডিসি ফটো

বর্তমান ও ভবিষ্যতের কর্মবাজারে টিকে থাকতে শুধু প্রচলিত একাডেমিক জ্ঞান নয়, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের ওপর জোর দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এএসএম আমানুল্লাহ। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল লিটারেসি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, তথ্য বিশ্লেষণ, কার্যকর যোগাযোগ, দলগত কাজ এবং বাস্তব সমস্যা সমাধানের সক্ষমতাই আগামী দিনের কর্মসংস্থানের প্রধান ভিত্তি হবে। ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে এআইভিত্তিক ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ একটি সত্যিকারের গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে।

রোববার (১৯ জুলাই) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত চারদিনব্যাপী ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য জানান, শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী ও কর্মমুখী দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের সব বিষয়ে ‘অ্যাপ্লাইড আইসিটি’ কোর্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নতুন কোর্সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, সাইবার সিকিউরিটি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ডিজিটাল ইকোনমি, ফ্রিল্যান্সিং, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাবহারিক প্রয়োগ এবং বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির বাজারে আরও দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ড. আমানুল্লাহ বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও দেশের উচ্চশিক্ষায় দক্ষতাভিত্তিক পাঠ্যক্রমের ঘাটতি রয়েছে। এই বাস্তবতা পরিবর্তনের লক্ষ্যেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ধারাবাহিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। শিক্ষার্থী বা শিক্ষক নয়, দীর্ঘদিনের নীতিগত সীমাবদ্ধতার কারণেই দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়তে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আইসিটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ মডিউল এবং মানসম্মত রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো দেশের প্রতিটি কলেজে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অভিন্ন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে পারেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার অনেক কলেজে শিক্ষক সংকট, আইসিটি ল্যাবের অভাব এবং সীমিত অবকাঠামো থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আন্তরিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্ম শুধু চাকরির জন্য নয়, ডিজিটাল উদ্যোক্তা হওয়া, অনলাইন ব্যবসা ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতিও আগ্রহী। তাই তাদের জন্য প্রয়োজন বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পদ্ধতিগত জ্ঞান। একই সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ, সামাজিক মূল্যবোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশিক্ষণ দপ্তরের পরিচালক সালমা পারভীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শংকর। স্বাগত বক্তব্য দেন কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন অধ্যাপক ড. এ.এইচ.এম. রুহুল কুদ্দুস। কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ, পেডাগজি ও প্রশিক্ষণ বিশেষজ্ঞ, অনলাইন কোর্স ডিজাইন বিশেষজ্ঞ, ফ্যাসিলিটেটর এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: তদন্তে ৩০টির বেশি সুপারিশ, বা…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
আন্দোলনের সময় গুপ্তদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি: তারেক রহ…
  • ২১ জুলাই ২০২৬
‘গুপ্ত’ শব্দটি ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও চিনে তারা কারা: …
  • ২১ জুলাই ২০২৬
গোপালগঞ্জে আবাসিক হোটেল থেকে পাঁচ নারীসহ আটক ১১
  • ২০ জুলাই ২০২৬
আন্দোলন শরিক নেতাদের কাছে দুঃখপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
  • ২০ জুলাই ২০২৬
অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে তিতুমীর কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্…
  • ২০ জুলাই ২০২৬