জবি শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ: আহত ২৫ © সংগৃহীত
পুরান ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের ব্যাপক লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সোমবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত দুইটার দিকে পুরান ঢাকার মুরগিটোলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আইন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাসিদুল ইসলাম জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে এলাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী মারধর করলে অভিযুক্তরা একটি বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসাটি ঘেরাও করলেও দীর্ঘ সময় গেট না খোলায় অভিযুক্তরা দোতলার ওপর দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গেট আটকে রাখা বাসার মালিকসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও একজনকে আটক করে পুলিশ।
তিনি জানান, একজনকে আগে থানায় নেওয়া হলেও বাসার মালিককে প্রায় তিন থেকে চার ঘণ্টা ঘটনাস্থলে রাখা হয়। পরে পুলিশ যখন তাকে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন উপস্থিত শিক্ষার্থীদের একজন তাকে চড় মারেন। এর পরপরই পুলিশ কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ওপর ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু করে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসিরউদ্দিন বলেন, গেন্ডারিয়া থানার ওসি তাকে জানিয়েছেন, স্থানীয় এক ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার পর পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় নিতে চাইলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাকে মারধরের চেষ্টা করে এবং থানায় নিতে বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
অন্যদিকে, গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার শুরুতে এক জবি শিক্ষার্থী স্থানীয়দের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে মারধরের শিকার হন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই থেকে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে এসে বাড়িটি ঘেরাও করে। পুলিশ অভিযুক্ত একজনকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা তাকে ছিনিয়ে নিয়ে মারধরের চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির মধ্যেও পুলিশ আটক ব্যক্তিকে থানায় নিতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় এডিসি মুহসীন স্যারসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমরা যদি তখন কঠোর অবস্থান না নিতাম, তাহলে আটক ব্যক্তিকে হত্যা করা হতে পারত। মামলা হলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।