হল ছাড়ার নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযানে কলেজ প্রশাসন © টিডিসি ফটো
ঢাকা কলেজের আবাসিক হলে অবস্থানরত মেয়াদোত্তীর্ণ অবৈধ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়েছে কলেজ প্রশাসন। শুক্রবার (১ মে) মধ্যরাতে কলেজ হল কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আনোয়ার মাহমুদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের বিভিন্ন হলের প্রতিটি কক্ষে কক্ষে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করছেন হল প্রভোস্টরা। মাস্টার্স পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং ২০১৯–২০ সেশনসহ এর পূর্বের সেশনের মেয়াদোত্তীর্ণ অবৈধ শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ত্যাগের নির্দেশনা দেন তারা। এসময় অভিযানের খবর পেয়ে প্রভোস্টদের মুখোমুখি এড়াতে মেয়াদোত্তীর্ণ অধিকাংশ শিক্ষার্থী হলের বাইরে চলে যান। এছাড়া হলের কিছু অবৈধ শিক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়ান।
জানা যায়, ছাত্রাবাসের সিট বরাদ্দের নিয়ম অনুযায়ী ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭, ২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও সদ্য মাস্টার্স পরীক্ষা শেষ হওয়া ২০১৯-২০ সেশনের প্রায় দুই শতাধিক মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অবৈধভাবে হলে অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বিভিন্ন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হলে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন সুবিধা বঞ্চিত থেকে তারা হলে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন।
অভিযান চলাকালে প্রভোস্টরা জানান, ৩০ তারিখ ছিল শেষ সময়। আজ ১ তারিখের মধ্যে সবাইকে হল ছাড়তে হবে। অনার্স পাসের পর পরীক্ষা দিক বা না দিক, আর থাকা যাবে না। ২০১৯–২০ বা তার আগের কোনো সেশনের শিক্ষার্থী রুমে থাকলে তাকে অবিলম্বে হল ত্যাগ করতে হবে। এখানে কোনো ‘যদি’ বা ‘কিন্তু’ চলবে না সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য।
এ সময় শিক্ষার্থীরা জানান, যদি সবাই একসঙ্গে হল ত্যাগ করে তাহলে আমি আমরাও চলে যাব। কিন্তু আমরা বের হওয়ার পর কেউ যদি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হলে থেকে যায়, তা মেনে নেওয়া হবে না। আইন সবার জন্য সমান, তাই সবার ক্ষেত্রেই একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রভোস্টরা মূলত ২০১৯–২০ সেশনের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার কথা বলছেন। অথচ এর বাইরেও বহু পুরোনো সেশনের যেমন ২০১৫–১৬ সেশনের শিক্ষার্থীরাও হলে অবস্থান করছেন, যাদের বিষয়ে প্রশাসন তেমন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে না। তাছাড়া কোন হলে কত শিক্ষার্থীর মেয়াদ শেষ হয়েছে এখন পর্যন্ত লিস্ট করে নাই।
মো. মমিন নামে এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘রুমে আইসা ১৯-২০ খুঁজচ্ছে। তার আগের আদুভাইরা হলে আছে, সিট ছাড়ছে না তাদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নাই।
মো. ইমরান মাহমুদ নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, যে সব বুড়ো গুলো হলে আছে যাদের পড়াশোনা আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগে শেষ ওরা আছে কীভাবে? ১৮-১৯ থেকে সব চলে যাওয়ার মত তারপর ১৯-২০ আরও থাকার মত সময় আছে।
এর আগে, গত ২৩ এপ্রিল ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস কর্তৃক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিগত বছরে মাস্টার্স শ্রেণিতে অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীদের ৩০ এপ্রিল তারিখের মধ্যে ছাত্রাবাস ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়। তবে বেশিরভাগ অবৈধ শিক্ষার্থী এখনো হলে অবস্থান করছেন।