সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসি

এডুকেশন ক্যাডারের শিক্ষকরা নিজেদের ‘অফিসার’ পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০১ PM
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম © সংগৃহীত

দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় সংযুক্ত কলেজ কাঠামোর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) বলেছেন, বিসিএস এডুকেশন ক্যাডারের অনেক শিক্ষক নিজেদের ‘শিক্ষক’ পরিচয়ের চেয়ে ‘অফিসার’ পরিচয় দিতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো একজন শিক্ষক, অফিসার নয়। একজন শিক্ষক যদি নিজের পরিচয় ও মানসিকতা দুই ভাগে ভাগ করে রাখেন—একদিকে অফিসার, অন্যদিকে শিক্ষক, তাহলে শিক্ষার্থীরা কি তার কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে পারবে? 

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, বর্তমানে সংযুক্ত কলেজ ব্যবস্থায় একটি বড় সমস্যা হলো দ্বৈত প্রশাসন (ডুয়েল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)। শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি নিয়ন্ত্রণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অন্যদিকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে। ফলে একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে দুই ধরনের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে কাজ করতে হয়। এই ব্যবস্থায় শিক্ষকদের সামনে একটি দ্বন্দ্ব তৈরি হয়—তারা কি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উন্নয়নে পুরোপুরি মনোযোগ দেবেন, নাকি নিজের ক্যারিয়ারগত বিষয় যেমন পদোন্নতি ও বদলির দিকে বেশি গুরুত্ব দেবেন।

তিনি আরও বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একজন দক্ষ শিক্ষক। কিন্তু যদি একজন শিক্ষক নিজেকে ‘অফিসার’ ও ‘শিক্ষক’—এই দুই পরিচয়ের মধ্যে বিভক্ত করে ফেলেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা তার কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনে বাধার সম্মুখীন হতে পারে। 

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন আছে। কারণ, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক। আমাদের দেশে সরকারি বিভিন্ন কলেজে অনেক এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক আছেন, যারা গবেষণায় যুক্ত এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করছেন। এসব যোগ্য শিক্ষকদের একত্রিত করে, তাদের মধ্য থেকে সেরা শিক্ষকদের বেছে নিয়ে যদি আমরা পাঠদানে যুক্ত করতে পারি, তাহলে ‘অ্যাফিলিয়েটেড’ বা ‘সংযুক্ত’ এই বিতর্ক অনেকটাই দূর হবে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পদ্ধতি বাতিল করে কি ইউজিসির মতো নিয়োগ পদ্ধতিতে আসা উচিত? একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সত্যিকারের স্বায়ত্তশাসিত (অটোনোমাস) প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে, সেখানে শিক্ষক নিয়োগ, কারিকুলাম ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোনো পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে নয়, বরং অ্যাকাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। সেখানে শিক্ষকরা নিজেদের পরিচয় দেন ‘শিক্ষক’ হিসেবে, ‘অফিসার’ হিসেবে নয়।  

সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে ভিসি বলেন, আমরা চাই, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গুণগত মানসম্পন্ন, দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক। তাদের যথাযথ অ্যাকাডেমিক ক্রেডেনশিয়াল থাকতে হবে। তবে বর্তমানে যারা সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ার, ফোর্থ ইয়ার বা মাস্টার্সে পড়াচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে হঠাৎ করে পরিবর্তন আনা প্রায় অসম্ভব। তাই আমরা পরিকল্পনা করছি, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে যারা নতুন ভর্তি হবে, তাদের জন্য উচ্চমানের শিক্ষক নিশ্চিত করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, বিসিএস এডুকেশন ক্যাডারের মধ্যেও অনেক ভালো শিক্ষক আছেন, আমরা তাদের অগ্রাধিকার দেব। আমরা চাই, সংযুক্ত কলেজের শিক্ষকরা যখন অনার্স পর্যায়ে পড়াবেন, তখন তারা নিজেদেরকে গর্বের সঙ্গে বলতে পারেন—“আমি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষক বা ফ্যাকাল্টি মেম্বার।” এই পরিচয়ের একটি মর্যাদা তৈরি করতে হবে, যদিও এতে সময় লাগবে।

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে আছি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ১০৩৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যার মধ্যে মাত্র ২.০৮ শতাংশ গবেষণায় ব্যয় করা হয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট এখনো নির্ধারিত হয়নি, তবে ভবিষ্যতে অবশ্যই একটি বাজেট থাকবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ভিসি বলেন, আমাদের পরিকল্পনা হলো—একটি বিশ্ববিদ্যালয় মানেই শুধু ক্লাসরুমে পাঠদান নয়; গবেষণাও একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই আমরা গবেষণা খাতে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করব। 

লাল মাংস ও স্বাস্থ্য সচেতনতা
  • ২০ মে ২০২৬
২৩ দিনের ছুটিতে যবিপ্রবি, খোলা থাকছে হল
  • ২০ মে ২০২৬
জগন্নাথের ক্লাসরুমে অন্তরঙ্গ অবস্থায় টিকটক, বহিষ্কার নবীন দ…
  • ১৯ মে ২০২৬
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত, কর্মকর্তাদের আইন মন্ত্রণালয়ে…
  • ১৯ মে ২০২৬
ভাগে কোরবানি দিচ্ছেন, জেনে নিন এই ৪টি বিষয়
  • ১৯ মে ২০২৬
আওয়ামীলীগ ব্যাক করেছে, দেখো নাই? কি, রাগ করলা?
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081