সনদ জাল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

সিন্ডকেটের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়ে বেরোবিতে ইউজিসির চিঠি

০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৮ PM
মো. ইউসুফ

মো. ইউসুফ © সংগৃহীত

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে ফলাফল জালিয়াতি করে নিয়োগ পাওয়ার ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সিন্ডকেটের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড.মো মহিবুল আহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানতে চাওয়া হয়। 

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রাব্বানী কর্তৃক একই বিভাগের শিক্ষক মো ইউসুফের বিরুদ্ধে সনদ জাল করে চাকুরি করার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে গঠিত তথ্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন ও সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত কমিশনে প্রেরণ করতে বলা হয়।

এর আগে এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে শিক্ষা বোর্ডের তথ্যেও সনদ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায়। তারই প্রেক্ষিতে গত ২৬ নভেম্বর ১১৮ তম সিন্ডিকেট সভায় উচ্চতর আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মো. ইউসুফের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাইয়ের জন্য রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হলে বোর্ড জানায়, ইউসুফ যে এইচএসসি সনদ জমা দিয়েছেন, তা তাদের রেকর্ডের সঙ্গে মিলছে না। তার জমা দেওয়া ফলাফলে জিপিএ ৩.০১ থাকলেও বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ড অনুযায়ী তার প্রকৃত জিপিএ ২.৯০।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক যেকোনো একটিতে ন্যূনতম জিপিএ ৪ থাকতে হয়, যা ইউসুফ কোনোভাবেই পূরণ করেননি।

জানা যায়, ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইতিহাস বিভাগে প্রভাষক/সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগের জন্য প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল, এসএসসি ও এইচএসসির যেকোনো একটিতে ন্যূনতম ‘এ’ গ্রেড থাকতে হবে। অথচ ইউসুফ এসএসসিতে জিপিএ ৩.৫০ এবং এইচএসসিতে ৩.০১ (বা প্রকৃতপক্ষে ২.৯০) পেয়েছেন, যা বিজ্ঞপ্তির শর্ত পূরণ করে না। তবু তিনি নিয়োগ পান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ইউসুফের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো প্ল্যানিং কমিটি গঠন করা হয়নি। বরং সিন্ডিকেট তার নিয়োগ বাতিল করলেও চ্যান্সেলরকে অবহিত করার আইনগত বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে যাওয়া হয়। সেই ফাঁকেই হাইকোর্টে রিট করে রায় নিয়ে নিয়োগ কার্যকর করেন ইউসুফ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো আপিলও করেনি।

প্রাপ্ত কাগজপত্র অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রভাষক পদের জন্য একটিমাত্র স্থায়ী পদ বিজ্ঞাপিত হলেও তিনজনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। লিখিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ‘স্থায়ী একটি প্রভাষক পদ’ উল্লেখ থাকলেও ‘এক’ শব্দটি কলম দিয়ে কেটে হাতে লিখে ‘তিন’ করা হয়। সেই তিনজনের তালিকায় ইউসুফকে প্রথমে সুপারিশ করা হলেও তার নামের আগে রহস্যজনকভাবে ‘ক্রমিক নং ২’ লেখা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর লিখিত অভিযোগে এসব অনিয়ম ও জালিয়াতির কথা উল্লেখ করা হয়। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সহায়তায় ফলাফল জালিয়াতির প্রমাণ মেলে।

গত এক দশকে বাংলাদেশে অর্ধেক তরুণ চাকরি পাননি
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
আকস্মিক ঝড়ে লন্ডভন্ড চরাঞ্চল, ভোলায় ঈদের আগে ঘরহারা অর্ধশত …
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
ইরানে কয়েকশ স্টারলিংক ডিভাইস জব্দ করেছে আইআরজিসি 
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
জামায়াতের কোন নেতা কোথায় ঈদ করবেন
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
নামাজে উৎসাহিত করতে ৩১৭ শিশুকে সাইকেল উপহার ক্রীড়া প্রতিমন্…
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ ও কর্মযজ্ঞের হিসাব দিলেন…
  • ১৭ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence