ছাত্রলীগের রাতভর বিক্ষোভ
রাতভর সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভ। © মেশকাত মিশু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের তুচ্ছ ঘটনায় রাতভর বিক্ষোভ করেছে ছাত্রলীগ। হলের অভ্যন্তরে আবাসন নিয়ে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলেও বিষয়টিকে কিছুক্ষণ বাম কিছুক্ষণ ছাত্রীসংস্থা ঘটিত রূপ দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার দিবাগত রাত ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দলের নেতাকর্মীরা হল ফটকে এ বিক্ষোভ করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে তাদের শান্ত করেন এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
হল সূত্রে জানা যায়, হলের গণরুমে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় প্রাধ্যক্ষ প্রথম বর্ষের কয়েকজন ছাত্রীকে টিভি রুমে সিটের ব্যবস্থা করে দেন। ফলে সিনিয়র শিক্ষার্থীদের টেলিভিশন দেখা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়। এরই প্রেক্ষিতে তারা টিভি রুমের ছাত্রীদের গণরুমে ফিরে যেতে বলেন।
এ সময় বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রী ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে পরিচয় দিলে দুইপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুকে বিষয়টি জানায়। রাতেই ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী হলের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হলের এক আবাসিক ছাত্রী জানান, ‘কী যে কি হচ্ছে আসলে বুঝতে পারছি না। একটা মেয়ে ছাত্রলীগের রেফারেন্সে উঠেছে, ও ফাস্ট ইয়ার, সে রুনু ভাইকে ডেকে নিয়ে আসলো যে তাকে হল থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, তাকে আপুরা পারতো একটা সীটের ব্যবস্থা করে দিতে। আমরা বিষয়টা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি থামাতে সিনিয়র-জুনিয়র একসাথে বসি। কিন্তু এ সময় বিষয়টা নিয়ে বাইরে কিছুক্ষণ বাম কিছুক্ষণ ছাত্রীসংস্থা বলে স্লোগান দেয়া হচ্ছিল।
এ ব্যাপারে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, আমরা জানতে পেরেছি হলে ছাত্রীসংস্থা মিটিং করে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মীকে হেনস্থা করেছে। তাই আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছি।’
হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক বীথিকা বণিক এবং প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান জানান, ‘হলে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়েছিল। আমরা উভয়পক্ষের কথা শুনে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি। আর হলে সিটের যেই সমস্যা তা সমাধানের জন্য আমরা অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেব।