ব্যাজ ডে পালনকে কেন্দ্র করে নবীন শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র চিকা ও দেয়াল লিখন
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য করে ‘ব্যাচ ডে’ পালন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক সম্মান (৪৮ তম ব্যাচ) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সকাল থেকে প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীরা দিবসটি উপলক্ষ্যে ক্যাম্পাসে যত্রতত্র দেয়াল লিখন, হইহুল্লোড় রং মাখামাখি, বিভিন্ন স্পটে মিছিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
সারাদিনের কর্মসূচির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ৪৮তম ব্যাচ তাদের ক্লাস শুরুর ৪৮তম দিন উপলক্ষ্যে বিভিন্ন বিভাগ প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে দিবস পালন করেছে। বিভাগগুলো হলো-গণিত, বাংলা, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রাণ রসায়ন, আইআইটি,প্রাণীবিদ্যা,আইন, মার্কেটিং বিভাগ। তবে অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় দিবসটি পালন করেনি বলে জানা যায়।
এদিকে ব্যাচ ডে পালন করতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় যত্রতত্র দেওয়াল লিখন করে। অ্যাপসভিত্তিক বাইসাইকেল সেবা জোবাইকের স্ট্যান্ডিং পয়েন্টে ‘অহেতুক’ নিজেদের বিভাগ ও ব্যাচের নাম লিখেছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘ব্যাচ ডে’ পালন করাকে শিক্ষার্থীরা সংস্কৃতির অংশ মনে করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে এধরনের ঐতিহ্যের চর্চা ৬-৭ বছর আগেও ছিলো না। হুট করে ‘ব্যাচ ডে’ বিষয়টিকে সামনে এনে সংস্কৃতি চর্চার নামে অহেতুক ক্যাম্পাসের পরিবেশ খারাপ করছে শিক্ষার্থীরা। এমনকি কুকুরের গায়েও নিজেদের ব্যাচের সংখ্যা লিখেছেন তাঁরা।
এসংক্রান্ত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাইসা নিশাত প্রমিতি লিখেছেন, ‘আপনাদের (৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের) কমনসেন্সের মাত্রা দেখে খুবই গর্ববোধ হচ্ছে। নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের প্রথম রিইউনিয়নের স্মৃতি স্বরূপ ওয়াল আর্টটা করা হয়েছিলো। তার পাশে স্বর্ণাক্ষরে আপনাদের নামটা না লিখলেও পারতেন। এই জিনিসটা খুব আবেগের ছিলো।’
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী সিয়াম চৌধুরী ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, ‘খোলা প্রান্তরে আপনাদের (৪৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের) পার্টিতে কেকের প্যাকেট, র্যাপিং পেপার, পার্টি স্প্রে'র ক্যান, প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করে সেলিব্রেট করার পদ্ধতি ই¤েপ্রসিভ! পার্টি শেষে সেসব অপচনশীল বস্তু এমন খোলা সবুজ প্রান্তরে ফেলে রেখে আপনাদের ঐতিহাসিক ব্যাচ ‘ডে'র স্মৃতি অক্ষয় করার আইডিয়া সত্যিই অনেক স্মার্ট একটা আইডিয়া। প্রথম কোন গোষ্ঠী হিসেবে, সিডনি ফিল্ডে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল সংলগ্ন খেলার মাঠ) এহেন কর্মকান্ডের কৃতিত্ব শুধু এবং কেবলমাত্র আপনাদেরই। এই কৃতিত্ব আপনাদের উন্নত স্মার্টনেসেরই বহিঃপ্রকাশ।’
এদিকে বেলা এগারটার দিকে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আসম ফিরোজ উল হাসান ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এলাকায় একটি বিভাগকে এধরনের অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করেন। এছাড়াও বিকেলে শহীদ সালাম বরকত হলের শিক্ষার্থীরা দিবস উপলক্ষ্যে মিছিল বের করলে প্রক্টর মিছিলটি পণ্ড করে দেয়।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাচ ডে পালনের প্রচলন শুরু হয় বিগত তিন চার বছর ধরে, এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের পোশাকে অনেক কুরুচিপূর্ণ শব্দ লিখে এবং আপত্তিকর ভাবে ব্যাচ ডে পালন করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপযুক্ত পরিবেশ নষ্ট হয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যাচ ডে পালনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তবুও কিছু বিভাগে এটা পালনের চেষ্টা করা হলে আমরা গিয়ে বাধা দিয়েছি।’