নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

তিন বছরেও শেষ হয়নি সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের বিভিন্ন অংশ ফাঁকা থাকায় অবাধে প্রবেশ করে বহিরাগতরা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের বিভিন্ন অংশ ফাঁকা থাকায় অবাধে প্রবেশ করে বহিরাগতরা  © টিডিসি ফটো

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০২২ সালের মার্চে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৫০০ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয়। কিন্তু তিন বছর পার হলেও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি নির্মাণকাজ। অনেক স্থানে ফাঁকা থাকায় অবাধে প্রবেশ করছে বহিরাগতরা। একাধিক স্থান যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছেন স্থানীয় লোকজন। ফলে ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিংয়ের শিক্ষার্থী শাহাদাত বলেন, ‘এ জায়গাগুলো যদি খোলা থাকে তাহলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার একটা শঙ্কা থাকে। আমাদের জন্য এ জায়গাগুলো দিয়ে যাতায়াতের সুবিধা হলেও মূলত যাতায়াতের জন্য হলো মেইন গেট। আমার বাসায় যদি দেয়াল থাকে, তাহলে যতোই ঘুরে হোক আমাকে গেট দিয়েই ঢুকতে হয়। তাছাড়া এভাবে খোলা থাকলে যে কোনও সময় অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে যেতে পারে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরে কিছু অংশ নির্মাণ এখনও বাকি রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের যে অংশ নির্মাণ করে হয়, তার কয়েকটি জায়গায় স্থানীয় লোকজন দেয়াল ভেঙে ফেলে। শিউলীমালা হল সংলগ্ন অংশ ভেঙে ফেলার পর তা সংস্কার করা হলেও চুরুলিয়া মঞ্চ ও নতুন বিজ্ঞান ভবন সংলগ্ন অংশ এখনও সংস্কার হয়নি। 

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুদ্বীপ এলাকায় স্থানীয়দের বাঁধায় যে অংশটি ফাঁকা রাখা হয়েছিল, সেখানেও দেয়াল নির্মাণ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে গত বছরের ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি বিজ্ঞপ্তিতে ১ ডিসেম্বর থেকে চলাচলের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান দুটি গেট ব্যবহারের এবং ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ফাঁকা অংশ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। এর সাত মাস পার হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। 

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে আজকের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত

চারুদ্বীপ এলাকার বাড়িওয়ালা মাহমুদ আলী বলেন, ‘রাস্তা এখনই বন্ধ করা হবে না। আমাদের যাতায়াতের জন্য এ ভার্সিটির রাস্তা ছাড়া অন্য কোন পথ নেই। কয়েক মাস আগে ইউওএনও এসে দেখে গেছেন। আমাদের জন্য বিকল্প একটা রাস্তা করে দেবে পূর্ব দিক দিয়ে। এখন হয়তো বাজেট নেই, তাই রাস্তা করতে পারছে না। এটা বন্ধ করে দিলে আমাদের একটু কষ্ট হবে। আমাদের ঘুরে যেতে হবে অনেকখানি। এখনকার মতো হয়তো ভাড়াটিয়াও পাওয়া যাবে না। আপাতত বিকল্প রাস্তা না করা পর্যন্ত এই রাস্তা বন্ধ করা হবে না।’

পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা এটার উদ্যোগ নেবো, সব বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটা কবে সেই ডেট দিতে পারব না আমি। যত দ্রুত সম্ভব এটা আমরা বন্ধ করে দেব। এটা বন্ধ করে দেওয়ার জন্য আমাদের ওপর চাপ আছে।’

এ কাজ করার জন্য নিরাপত্তা দরকার জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ মোফাছিরুল ইসলাম বলেন, ‘এটা নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। এ জায়গাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। এটার জন্য প্রক্টরিয়াল বডির সাথে সমন্বয় করা হচ্ছে। আজকে বন্ধ করে দিলে কাল আবার ভাঙা হতে পারে। কারণ এ জায়গাগুলো তো করাই ছিল। পুনরায় যেন না ভাঙে সে জন্য সিকিউরিটি দরকার।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা প্ল্যানিং কমিটিকে কাজ শুরু করতে নির্দেশনা দিয়েছি। তারা হয়তো খুব তাড়াতাড়িই কাজ শুরু করবে।’


সর্বশেষ সংবাদ

×
  • Application Deadline
  • December 17, 2025
  • Admission Test
  • December 19, 2025
APPLY
NOW!
GRADUATE ADMISSION
SPRING 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence