‘মৃত প্রক্টর’ দিয়েই ২মাস যাবৎ চলছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় 

০৭ জুলাই ২০২৫, ০৭:২০ AM , আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৫, ১০:১৯ PM
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকী কফিন মিছিল ও গায়েবানা জানাজা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতীকী কফিন মিছিল ও গায়েবানা জানাজা © টিডিসি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চোখে 'মৃত' ঘোষিত প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সনি এখনও স্বপদে বহাল রয়েছেন। দীর্ঘ দুই মাস ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় থেকেও বিতর্কিত এই প্রক্টরের বহাল থাকা নিয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। গত ৩০ এপ্রিল উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে চার দফা দাবিতে প্রতীকী কফিন মিছিল ও গায়েবানা জানাজা আয়োজন করেন শিক্ষার্থীরা। সেদিনই তাঁরা প্রক্টরকে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন। মূলত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও জিডির প্রতিবাদেই তারা এই কর্মসূচি পালন করেন। পরবর্তী সময়ে, ১৩ মে বরখাস্ত করা হয় তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম। প্রশাসনিক এই রদবদলের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কার্যক্রমে পরিবর্তন এলেও আলোচিত প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সনিকে সরানো হয়নি এখনও।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন, উপাচার্য স্যার নিযুক্ত হওয়ার পর থেকে একাধিকবার তার কাছে ফ্যাসিবাদের পদলেহন ও জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সকল লাভজনক পদ থেকে অপসারণ করার দাবি জানিয়ে আসছি। বিশেষ করে আমাদের চোখে মৃত প্রক্টর সোনিয়া খান সনিকে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, উপাচার্য তাদের কথায় কর্ণপাত করছেন না এবং বারবার সময় নিচ্ছেন। মোকাব্বেল শেখের মতে, দীর্ঘ দেড় মাস অতিক্রান্ত হলেও উপাচার্যের এই সৎসাহসের অভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তিনি আশা করেন, উপাচার্য শিক্ষার্থীদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন।

সমাজকর্ম বিভাগের প্রভাষক মোস্তাকিম মিয়া বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন বিগত ফ্যাসিস্ট ও অনিয়মতান্ত্রক উপাচার্য শুচিতা শরমিনের বিরুদ্ধে ন্যায্য আন্দোলনে শামিল হয়েছিল, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নির্লিপ্ত আচরণ শিক্ষার্থীদের হতাশ করেছিল। বিশেষ করে তৎকালীন প্রক্টরের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ।" তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরা শতবার ফোন করেও প্রক্টরকে পাননি, অথচ অনেক শিক্ষক নৈতিক অবস্থান নিয়ে পদত্যাগ করলেও তিনি অনিয়মে অভিযুক্ত উপাচার্যকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। মোস্তাকিম মিয়া আরো বলেন, নতুন উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হলেও প্রশ্নবিদ্ধ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রক্টরকে স্বপদে বহাল রাখা অত্যন্ত হতাশাজনক। শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ পদে একজন দায়িত্বশীল, নিরপেক্ষ ও ছাত্রবান্ধব ব্যক্তিকে দেখতে চায়।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম বলেন, আমি নতুন এসেছি বিধায় কাউকে তেমন জানিনা এজন্য প্রক্টর বাছাই করতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। আপনারা আমার জায়গায় এসে চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন আমার অবস্থা। তিনি আরও জানান যে, শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে তারা গ্রহণ করা যায় এবং তাকেই খুব দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে।

ইবিতে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ক্যাম্পাসজুড়ে মাইকিং
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
জবিতে ছাত্রদলের হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে হাসপাতালে জা…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ, জুলাইয়ের অনুষ্ঠান বয়কট করলেন এনসিপি …
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের টিকিট মিলবে অনলাইনে, যেভ…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষ, আহত বেশ কয়েকজন
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬
বরগুনায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মস…
  • ০৫ আগস্ট ২০২৬