© টিডিসি ফটো
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যকার সংঘর্ষ ও কোন্দলের কারণে ছয় নেতাকর্মীকে দোষী করে তিন মাসের জন্য তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিতাদেশ করেছে। শুক্রবার শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান স্বাক্ষরিত এক সংবদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিগত কিছুদিন যাবত পরিলক্ষিত হচ্ছে একটি কুচক্রি মহল শাবিপ্রবি ছাত্রলীগের সুনাম ধূলিসাৎ করতে তৎপর। এই অনাকাঙ্খিত ঘটনাসমূহ পর্যবেক্ষণ করে আমরা জরুরি সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি, নজরুল ইসলাম রাকিব (সদস্য, শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ), আবুল হাসান মোল্লা (বিবিএ বিভাগ), আসাদুজ্জামান খান পরাণ (বাংলা বিভাগ), মুজাহিদুল ইসলাম রিশাদ (ইংরেজি বিভাগ), কাওসার আহমেদ সোহাগ (বাংলা বিভাগ) ও রাহাত সিদ্দিকীর (নৃবিজ্ঞান বিভাগ) আগামী তিন মাসের জন্য সকল প্রকার সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করছি এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের নিকট তদন্ত করে উক্ত ঘটনাসমূহে যে বা যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিও ঘটনাসমূহের তদন্ত করে দৃঢ় পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানাচ্ছি।
এছাড়াও বলা হয়, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া লাল সবুজের পতাকাবাহী সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জন্মলগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্ত্বশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধিকার আন্দোলনের বিগত সাত দশকের সফল সাহসী সারথি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণ ও দেশরত্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। তারই ধারাবাহিকতায় শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করে প্রতিনিয়ত অগ্রগামী। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া আদায় এবং প্রতিটি যৌক্তিক আন্দোলনে পাশে থাকে ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয়কে সেশনজটমুক্ত, মাদকমুক্ত করা, আবাসন সংকট দূরীকরণ, মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশের মানোন্নয়নসহ ২০ দফা দাবি তুলে ধরে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ সর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার। স্বেচ্ছায় রক্তদান, ক্লিন ক্যাম্পাস, শীতবস্ত্র বিতরণ, দরিদ্র শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ জনকল্যাণমূলক কাজে প্রতিনিয়ত নিয়োজিত ছাত্রলীগ।
শাবি ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি। আর তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বরাবর সুপারিশ করেছি।
প্রসঙ্গত, গত ১০ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ও শাহপরান হলের সামনে সিনিয়র ছাত্রলীগ নেতা মুশফিকুর রহমান ভূইয়ার অনুসারী ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনের অনুসারীদের মাঝে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে সহকারী প্রক্টরসহ উভয় গ্রুপের অন্তত ১৫ জন আহত হন। পরবর্তীতে ২৩ মার্চ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশে মুশফিকুরের অনুসারী রাজিব সরকারকে কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যান সাখাওয়াতের ৮/৯ জন অনুসারী। বর্তমানে রাজিব সরকার সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৪/৫ জনকে অজ্ঞাতনামা রেখে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া গত ২৬ মার্চ গভীর রাতে শাহপরান ও বঙ্গবন্ধু হলে কক্ষ দখলকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রুহুল আমিন ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মৃন্ময় দাশ ঝুটনের অনুসারীদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর আগে ওইদিন স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের এসব অভ্যন্তরীন কোন্দল নিয়ে নেতাকর্মীদের সমালোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। এসব বন্ধ করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান উপাচার্য।