মীর মশাররফ হোসেন হল প্রাঙ্গনে প্রথম জানাজা © টিডিসি ফটো
রাজধানীর ধানমন্ডিতে নির্মাণাধীন এক ভবন থেকে পড়া ‘লোহার পাতের’ আঘাতে শুক্রবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তার এই মৃত্যুতে ক্যাম্পাস জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মাহমুদ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ৪৭তম ব্যাচ ও মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মেহেরপুর জেলায়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ও তার সহপাঠীরা।
শনিবার দুপুর দুইটার দিকে মাহমুদের মৃতদেহ নিয়ে ক্যাম্পাসে আসে তার আত্মীয়-স্বজনরা। দুপুর সোয়া দুইটার দিকে তার আবাসিক হল মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে তার প্রথম জানাজা ও পরে কলা ও মানবিকী অনুষদের সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজার নামাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, হল প্রভোস্ট বিভাগের শিক্ষক ও তার সহপাঠীরাসহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। জানাযা শেষে মাহমুদের মরদেহ তার নিজ বাড়ি মেহেরপুর সদরে নেয়া হয়েছে। সেখানে তার পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছে তার অভিভাবকরা।
কলা ও মানবিকী অনুষদ প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় জানাজা
জানাজা শেষে দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তফা নাজমুল মানছুর বলেন, ‘মাহমুদের সাথে সবার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিলো। তার মৃত্যুতে দর্শন পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দর্শন পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’
তিনি বলেন, ‘মাহমুদের মৃত্যু কোন স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এটা একটা হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের জন্য বিভাগের পক্ষ থেকে আইনগত প্রচেষ্টা চালানো হবে।’ এছাড়া রবিবার বেলা ১১টায় শহীদ মিনারের পাদদেশে মানববন্ধনের ঘোষণা দেন তিনি।
এদিকে মাহমুদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যসহ কয়েকটি সংগঠন। এক শোক বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘এ মৃত্যু মেনে নেয়া কঠিন। মাহমুদ একটি স্বপ্ন নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি হয়েছিল। তার মৃত্যুর মধ্যদিয়ে সেই স্বপ্নেরও সমাধি হলো। এটি মাহমুদের বাবা-মায়ের জন্য কতো বড় আঘাত, তা অন্য কারো অনুভব করা কঠিন।’ উপাচার্য মাহমুদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করে আরো বলেন, ‘মাহমুদের মৃত্যু ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।’
অপর শোক বার্তায় মাহমুদের শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ জানায়, ‘মাহমুদের মৃত্যু নিছক কোন দুর্ঘটনা নয়। এর পেছনে নির্মনাধীন ভবনের উদাসীনতা ও সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকির অভাব রয়েছে।’ যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা ও মাহমুদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে মাহমুদ বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলা অবস্থায় পার্শ্ববর্তী নির্মাণাধীন ভবন থেকে একটি লোহার পাত বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে পড়ে। সেখান থেকে লোহার পাতটি এসে মাহমুদকে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।