চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপিত প্রথম ভাস্কর্য ‘জয় বাংলা’ © টিডিসি ফটো
প্রতিষ্ঠার পর ৫১ বছর পার করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক নানা ঘটনার স্মৃতি সংবলিত নানা ভাস্কর্য নির্মাণ হলেও এ যাবৎকাল পর্যন্ত চবিতে কোনো ভাস্কর্য ছিল না। তবে অবশেষে সে শূণ্যতা পুরণ হলো ‘জয় বাংলা’ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভাস্কর্য স্থাপনের মাধ্যমে। যা ২৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার উদ্বোধন করা হয়।
সোহরাব জাহানের নির্মিত 'জয় বাংলা' ভাস্কর্য উদ্বোধন করেন বিশ্বদ্যিালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী। ভাস্কর্যটি নির্মাণে সহযোগী হিসেবে ছিলেন জয়াশীষ আচার্য ও মুজাহিদুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার ও বুদ্ধিজীবী চত্ত্বরের মাঝামাঝি চৌরাস্তার মধ্যভাগে 'জয় বাংলা' ভাস্কর্যটি স্থাপন করা হয়েছে।
সদ্য নির্মিত ভাস্কর্যটির নির্মিতা সৌরভ জাহান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভাস্কর্যটি দুইটি স্তরে সাজানো হয়েছে। নিচের অংশে রয়েছে ১৮ জন তরুন শিক্ষার্থীর অবয়ব। এই অংশটি দ্বারা বর্তমান তরুন প্রজম্মের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে। অন্যদিকে উপরের স্তরে রয়েছে তিনজন মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব। এই তিন জনের দুইজন পুরুষ ও একজন নারীর অবয়ব। এর দ্বারা মুক্তিযুদ্ধে নারী ও পুরুষের প্রত্যক্ষ অংশ গ্রহনকেই তুলে ধরা হয়েছে।
নির্মিতা সৌরভ জাহান জানান, এতে দুইজন পাহাড়ী বাঙালীর অবয়ব দেয়া হয়েছে। যার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী বাঙালীদের অংশগ্রহনও তুলে ধরা হয়েছে।
ভাস্কর্যটির উচ্চতা ২০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১৮ থেকে ২০ ফুট। এর মধ্যে উপরের স্তরে তিনজন মুক্তিযোদ্ধার উচ্চতা ১১ ফুট এবং নিচের স্তরের প্রতিটি অবয়বের উচ্চতা ৫ ফুট করে। এছাড়া ভাস্কর্যটির উপরের অংশ সমসাময়িক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে এবং নিচের অংশ নির্মানের ক্ষেত্রে লাইফ কাস্টিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে।
ভাস্কর্য নির্মানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে নির্মাতা সোহরাব জাহান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, দেশ-বিদেশে অনেক কাজ করলেও কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাস্কর্য নির্মানের কাজ এটাই প্রথম। তবে বাংলাদেশের অন্যান্য ভাস্কর্যের চেয়ে এর আলাদা যে বৈশিষ্ট্য সেটা হলো, বাংলাদেশে নির্মিত অন্যান্য ভাস্কর্যগুলোতে মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অংশগ্রহণ পরোক্ষ ভাবে বুঝানো হলেও চবিতে নির্মিত এই ভাস্কর্যে মুক্তিযুদ্ধে নারীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
‘জয় বাংলা' ভাস্কর্যটি নির্মান কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী এবং সদস্য সচিব ছিলেন চারুকলা ইনিস্টিটিউটের পরিচালক শায়লা শারমিন।
চবির চারুকলা ইনিস্টিটিউটের পরিচালক ও ভাস্কর্য নির্মান কমিটির সদস্য সচিব শায়লা শারমিন বলেন, ভাস্কর্য নির্মানের জন্য ৫জন ভাস্কর নকশা জমা দিয়েছিল। এর মধ্য থেকে মূল্যায়ন কমিটি সোহরাব জাহানের নকশাকে অনুমোদন দেয়। দীর্ঘ্য ৬ মাস কাজ করার পর ভাস্কর্যটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমান তরুন প্রজম্মের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করার একটি চিত্র এতে তুলে ধরা হয়েছে।