বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টার স্থাপন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক

১১ মে ২০২১, ১১:২১ AM
বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি © লোগো

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভজনক শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার স্থাপন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে এসব পরিচালনার দেশের ক্রমবিকাশমান উচ্চশিক্ষা খাতে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি (এপিইউবি)। 

সম্প্রতি দেশে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মোনাস কলেজের (অস্ট্রেলিয়া) শাখা স্থাপন ও পরিচালনার সাময়িক অনুমতি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরই প্রেক্ষিতে এই উদ্বেগের কথা জানায় সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১১ মে) সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার অনুমোদন প্রসঙ্গে একক নীতি এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধি প্রণয়নের অনুরোধ জানিয়ে এপিইউবি কর্তৃক গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বরাবর পত্র প্রেরণের প্রেক্ষিতে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার পরিচালনা বিধিমালা-২০১৪ পুনঃমূল্যায়ন তথা সংশোধন ব্যতিরেকে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাভজনক শাখা ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হবে না মর্মে আশ্বস্ত করা হয়। 

কিন্তু এ আশ্বাসের পরও গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার পরিচালনার আকর্ষিক অনুমোদন দেয়া হয়। যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এবং বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার পরিচালনা প্রজ্ঞাপন-২০১৪ এর বৈসাদৃশ্য এবং এর ফলে উচ্চশিক্ষা খাতে সৃস্ট বৈষম্যের কয়েকটি দিকও তুলে ধরেছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি।

এসবের মধ্যে রয়েছে:

১) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী বাংলাদেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ ট্রাষ্ট আইন-১৮৮২ অধীন অলাভজনক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস/ স্টাডি সেন্টার কোম্পানি আইন ১৯৯৪ এর অধীন লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনুমোদন দেয়ায় কথা উল্লেখ করা হয়েছে।  যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর সাথে সাংঘর্ষিক।

২) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর ৪৪ (৭) ধারা অনুযায়ী ‘কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিলের অর্থ উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় ব্যয় ব্যতিত অন্য কোন উদ্দেশ্যে ব্যয় করা যাইবে না’, অথচ বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার প্রজ্ঞাপন ২০১৪ এর বিধি ৭ (ঝ) অনুযায়ী উদ্বৃত্ত অর্থ-সম্পদ উদ্যোক্তা, স্থানীয় প্রতিনিধি ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টন হবে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।  উচ্চশিক্ষা খাতে এ জাতীয় দ্বৈতনীতি কার্যকর হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের উদ্যোক্তাগণ নিরুৎসাহিত হয়ে পড়বেন।  

৩) বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনে স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন, কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল গঠন, শিক্ষাথীদের জন্য কোটা ও বৃত্তি প্রদানের বাধ্যবাধকতাসহ নানা বিধি থাকলেও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরণের কোন বিধিমালা রাখা হয়নি।

৪) বৈষম্যমূলক বিধির আওতায় সহজ শর্তে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের লাভজনক শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনার অনুমোদন কার্যকর হলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবে। সম্ভাবনাময় অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীর বিপরীতে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিশাল অংকের ব্যয় মেটাতে গিয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা খাতে বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধের বিপরীতে নিন্মমানের বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সর্বস্ব ক্যাম্পাস পরিচালনার মাধ্যমে সনদ বাণিজ্যের আশংকা রয়েছে। 

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি বলছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ গত তিন দশক ধরে স্বল্প খরচে মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা প্রদান করে আসছে। বর্তমানে বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সক্ষমতা ও মানের বিচারে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশি শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এসব ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য সরকারি সহযোগিতা বৃদ্ধি করা হলে উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে।

“বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনার বিভিন্ন বিধিমালা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর সাথে সাংঘর্ষিক এবং অলাভজনক উচ্চশিক্ষার নীতির পরিপন্থী। সার্বিক বিবেচনায় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের শাখা ক্যাম্পাস/স্টাডি সেন্টার পরিচালনার অনুমোদন স্থগিত করতঃ দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বৈষম্যহীন একক নীতি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিধি প্রণয়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির ৬০ নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদান
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
দুই মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল অনার্স শিক্ষার্থীর
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াত নেতা হত্যায় মামলা, প্রধান আসামি শেরপুর-৩ আসনের বিএন…
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
বাউফলে ভোট চাওয়া নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষ, আহত-২
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
রুয়েটে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিযোগিতা টেক ফেস্ট অনুষ্ঠিত
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
আনসার ব্যাটালিয়ন অফিস কমপাউন্ডে ককটেল বিস্ফোরণ
  • ৩১ জানুয়ারি ২০২৬