‘হলুদ সাংবাদিকতা’র দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বহিষ্কার

‘হলুদ সাংবাদিকতা’র দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র বহিষ্কার
  © লোগো

চাঁদাবাজি, ভালো ফলের জন্য বিভাগের শিক্ষকদের প্রভাবিত, উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’র আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে এক ছাত্রকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ। সাময়িক বহিষ্কার হওয়া মো. শামীম আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএসএস (অনার্স) ইন গভর্নমেন্ট অ্যান্ড পলিটিকস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (১৫ জানুয়ারি) ওই ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ফারুক আহমেদ স্বাক্ষরিত বহিষ্কার সংক্রান্ত একটি চিঠি দেন। চিঠিতে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না, তা তিন কর্মদিবসের মধ্যে জানতে চাওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি লঙ্ঘন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, উচ্ছৃঙ্খল ও অছাত্রসূলভ আচরণ, প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপি’র নামে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সংঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক নিয়ম অনুসারে ক্লাসে উপস্থিত ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করে আপনি এ প্লাস গ্রেড দেওয়ার জন্য বিভাগীয় শিক্ষকদের নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে আসছেন। আপনার চাহিদা মতো এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ শিক্ষার মানের সঙ্গে কোনও আপস করেনি। এ কারণে আপনি আপনার হীন স্বার্থ হাসিলে ব্যর্থ হয়ে ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষ, উপাচার্য এবং তার পরিবারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হলুদ সাংবাদিকতার আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন রকম মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রিণ্ট মিডিয়ায় প্রচার করে আসছেন।

এছাড়াও আপনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইমেইল ও অনলাইনে এরকম অপকর্ম অব্যাহত রেখেছেন। আপনার সামগ্রিক আচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, উপাচার্য ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট ও সামাজিকভাবে মর্যাদাহানি করছে। আপনাকে এ জাতীয় আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য বিভাগীয় শিক্ষকরা অনেকবার সর্তক করা সত্ত্বেও আপনার  চিরাচরিত অভ্যাস অব্যাহত রেখেছেন।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা  চিঠিপ্রাপ্তির তিন কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে শিক্ষার্থী মো. শামীম আহমেদকে।

বহিষ্কারের বিষয়ে প্রক্টর মো. মোবারক হোসেন বলেন, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থী শামীম আহমেদ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি করেন। তবে তিন কোন পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন, তা বলেন না। সাংবাদিক পরিচয় ছাড়াও তার ফেসবুকে প্রায় ৭০টির মতো পদ পরিচয় উল্লেখ রয়েছে।


মন্তব্য