ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে দেশের প্রথম ‘ডিকলোনাইজিং ল অ্যান্ড ক্রিমিনোলজি কনফারেন্স’ © টিডিসি ছবি
আইন, অপরাধবিজ্ঞান ও বিচারব্যবস্থাকে উপনিবেশিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে নতুনভাবে মূল্যায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রথম ‘ডিকলোনাইজিং ল অ্যান্ড ক্রিমিনোলজি কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২ আগস্ট) ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ, ড্যাফোডিল লিগ্যাল রিসার্চ সেন্টার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপনিবেশ-পরবর্তী আইন, অপরাধবিজ্ঞান ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে দেশি-বিদেশি গবেষক, আইনবিদ, বিচারক, নীতিনির্ধারক, আইনজীবী ও শিক্ষার্থীরা মতবিনিময় করেন।
সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘‘আনশ্যাকলিং দ্য মাইন্ড: ডিকলোনাইজিং ল, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড জাস্টিস ইন বাংলাদেশ’।
বাংলাদেশে এই প্রথমবারের মতো আইন, অপরাধবিজ্ঞান ও বিচারব্যবস্থায় উপনিবেশিক উত্তরাধিকার, দেশীয় জ্ঞান, ন্যায়বিচার এবং বিকল্প আইনচর্চাকে কেন্দ্র করে একটি আন্তর্জাতিক একাডেমিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের মাধ্যমে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয় নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং আইন পেশাজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও গবেষণাভিত্তিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।
সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার (গভর্ন্যান্স) ড্রাগান পোপোভিচ।
বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি বিচারপতি এম. এ. মতিন এবং বাংলাদেশ আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি জিনাত আরা।
এছাড়া বক্তব্য ও গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা শাজিয়া শারমিন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, তুরস্কের বোগাজিচি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সেলচুক আইদিন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. লিজা শারমিন, আইন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট ডিন অধ্যাপক ড. কুদরত-ই-খুদা বাবু, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম, নেপাল ফোরাম ফর রেস্টোরেটিভ জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক রাম তিওয়ারি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. সাইফুল হক এবং ড্যাফোডিল লিগ্যাল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও ভিজিটিং প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা।
সম্মেলনের একাডেমিক অধিবেশনগুলোতে আদিবাসী বিচারব্যবস্থা, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় উপনিবেশবাদের প্রভাব, নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের ডিকলোনাইজেশন, ট্রানজিশনাল জাস্টিস এবং ক্রিমিনোলজি বিষয়ক চারটি মূল থিম নিয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন ও প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনায় উপনিবেশ-পরবর্তী বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন দিক, দেশীয় জ্ঞানের প্রয়োগ, বিকল্প আইনচর্চা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা, মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং একটি আরও ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা সংসদকে আরও কার্যকর ও প্রাণবন্ত করতে চাই।
এ সময় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লিগ্যাল এডুকেশন কমিটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী বলেন,আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতা ভূমি বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রচলিত ধারণাগুলো নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। স্থানীয় জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিয়ে এমন আইনগত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা মানুষের বাস্তবতা ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আয়োজকরা জানান, এ সম্মেলনের মাধ্যমে আইন ও অপরাধবিজ্ঞান বিষয়ে গবেষণা, আন্তর্জাতিক একাডেমিক সহযোগিতা এবং ন্যায়বিচার নিয়ে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উপনিবেশ-পরবর্তী আইন ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা, নীতিগত আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের ক্ষেত্রেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।