ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম © টিডিসি ছবি
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে নব্য কোনো ফ্যাসিবাদকে আমরা মেনে নেব না। প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে হলেও শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করব।’
শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কের মহল হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি পূর্ব শাখার আয়োজিত ‘জুলাইয়ের অভ্যুত্থানে গৌরবের পথচলা: প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র পরিবর্তনের প্রসঙ্গ আসলেই আমাদের হাইকোর্ট আর সাংবিধানিক বিষয় দেখানো হয়। ১৯৭২ সালের সংবিধানের কথা তো বেগম খালেদা জিয়াও বলেছিলেন—ক্ষমতায় এলে তিনি এ সংবিধান ছুড়ে ফেলে দেবেন। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথম বাকশাল ও একদলীয় শাসনের সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। তার ভিত্তিতেই দীর্ঘদিনের এই ফ্যাসিবাদী স্ট্রাকচার দাঁড়িয়েছিল।’
তিনি বলেন, আমাদের শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকতে নব্য কোনো ফ্যাসিবাদকে আমরা মেনে নেব না। আমরা শহীদ পরিবারগুলোর কাছে ওয়াদা করছি, কমিটমেন্ট দিচ্ছি—প্রয়োজনে শহীদ হয়ে, রক্ত দিয়ে হলেও আপনাদের স্বপ্ন আজ হোক, কাল হোক বাস্তবায়ন করব।
শাপলা চত্বরের ঘটনা স্মরণ করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, খুনি শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আলেম-ওলামারা গায়ে রং মেখে অভিনয় করেছে, তাদের কাউকে হত্যা করা হয়নি। এটি ছিল কতটা নির্মম উপহাস।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবাবিল পাখির মতো গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিল। তারা আন্দোলনে নতুন মোড় এনে দিয়েছিল। তাদের দেখে আবার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে ফিরে এসেছিল।
জাহিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে আমি তামিরুল মিল্লাতের শিক্ষার্থী শহীদ নাসিরের বাসায় একটি খাম নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু তার মাকে কোনোভাবেই খামটি দিতে পারিনি। উল্টো পর্দার আড়াল থেকে তিনি আমাকে বলেছিলেন, বাবা, আমাদের সকল সম্পত্তি বিক্রি করে, আমার রক্ত বিক্রি করে তোমাকে একটা খাম দিই? তাকে কোনো জবাব দিতে পারিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ সিগবা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ব্যক্তি, শিক্ষক এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।