বাবা-ছেলে মিলে ‘পথে বসিয়েছে’ বিশ্ববিদ্যালয়কে

লুট ১০ তলা ভবন ও ৩০ কোটি টাকার ফ্লোর, অভিযোগ সনদ বাণিজ্য, কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অনুমোদনহীন ভবনে পাঠদানের

১৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪৬ PM , আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০৭ PM
 প্রফেসর ড. মকবুল আহমেদ খান (বাবা) ও আহমেদ ফরহাদ খান তানিম (ছেলে)

প্রফেসর ড. মকবুল আহমেদ খান (বাবা) ও আহমেদ ফরহাদ খান তানিম (ছেলে) © টিডিসি সম্পাদিত

বাবা-ছেলে মিলে ‌‘পথে বসানো’ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (ট্রাস্টি বোর্ড) ইতোমধ্যেই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে সম্প্রতি বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস গঠন করে দিয়েছে সরকার। দায়িত্ব নিয়ে বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস-এর চেয়ারম্যান ও সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়টির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মকবুল আহমেদ খান ও তার পদত্যাগের পর ছেলে আহমেদ ফরহাদ খান তানিম দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ আত্মসাৎসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘পথে বসিয়েছে’। যার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস।

তারা বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে আত্মসাৎ বা আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে সুস্পষ্ট হওয়া গেছে। এছাড়া ১০তলা ভবন ও প্রায় ৯০০০ স্কয়ারফুটের একটি ফ্লোর, যার বাজার মূল্য ৩০ কোটি টাকা—যা তসরূপ হয়েছে।

আরও পড়ুন: ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দিল সরকার

আজ রবিবার (১৯ জুলাই) ‘ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর পূর্ববর্তী ট্রাস্টি বোর্ডের দুর্নীতি-অনিয়ম প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেটরস এর প্রাথমিক বক্তব্য’ শীর্ষক গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেটরস কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ তানভীর রহমান এতে স্বাক্ষর করেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর সাবেক ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যদের পারস্পরিক বিরোধ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রশাসক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, যা গত ৫ জুলাই প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত হয়। পরে ৭ জুলাই বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেটরস তার কাজ শুরু করে এবং পূর্ববর্তী বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর নিয়োগকৃত জনবলের অসহযোগিতা সত্ত্বেও বেশ কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি এবং টাকা পাচার তদন্তে বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস দুর্নীতি দমনে কমিশন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বিএফআইইউ, সিআইডিকে স্বাধীনভাবে তদন্ত করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে রয়েছে—দীর্ঘদিন আরজেএসসিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বোর্ড অব ট্রাস্টিজের নিবন্ধন নেই। এর পূর্বের বোর্ড তৈরির পেছনে জালিয়াতির বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ আছে।

‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী সম্পদ তসরূপ এর ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—শ্যামলীস্থ রূপায়ন শেলফোর্ড ভবনের প্রায় ৯০০০ স্কয়ারফুটের একটি ফ্লোর, যার বাজার মূল্য ৩০ কোটি টাকা। মিরপুর-২, শাহ আলীবাগ, জনতা হাউজিং প্লট-২১১/২১২ এ একটি ১০ তলা ভবন যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আর্থিক হিসেবে বিপুল অর্থের গরমিল ও বেশ কিছু লেনদেন সন্দেহজনক পরিলক্ষিত হয়েছে। এছাড়া ক্রয়, প্রকল্প বা ব্যয় ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।’’

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর, ভ্যাট বা আর্থিক প্রতিবেদন সংক্রান্ত অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অনুমোদনের অতিরিক্ত ভর্তি, সার্টিফিকেট বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং দীর্ঘদিন মাত্র একটি কনভোকেশন আয়োজনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিয়োগ, পদোন্নতি, দায়িত্ব বণ্টন বা অন্যান্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা, স্বজনপ্রীতি ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে বলে এতে বলা হয়।

আরও পড়ুন: ট্রাস্টি বোর্ডের ‘বৈধতা’ প্রশ্নে বাবা-ছেলের দ্বন্দ্বে ডুবতে বসেছে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি

‘‘ভাড়াটিয়া গ্রুপ ব্যবহার করে শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অযৌক্তিক সুবিধা প্রদান এবং অন্যদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।’’

ইতিমধ্যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ কোটি টাকা বিভিন্ন খাতে আত্মসাৎ বা আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়—প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

ইউজিসির শর্তের ন্যূনতম জমির চাইতে কম জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস এবং ভবনের অনুমোদন না থাকা তাদের বক্তব্য উঠে এসেছে।

শেষে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস বিশ্বাস করে সাধারণ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারবেন এবং নতুন গ্রহণযোগ্য ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে সক্ষম হবেন।

নারী-পুরুষ উভয় ফুটবলে এখন স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য
  • ২০ জুলাই ২০২৬
ঝিনাইদহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে প্রাণ গেল নির্মাণশ্রমিকের
  • ২০ জুলাই ২০২৬
১৫ জেলায় বাড়ছে নদীর পানি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যার পূর্বাভাস
  • ২০ জুলাই ২০২৬
গবেষণায় জোর পাবিপ্রবির, এক বছরে প্রকাশ ৮৬ গবেষণাপত্র
  • ২০ জুলাই ২০২৬
পাঁচ বছরে ১৬ শিরোপা: বিশ্ব ফুটবলের অপরাজেয় শক্তি এখন স্পেন
  • ২০ জুলাই ২০২৬
সেই সাহেদ করিম ফের গ্রেপ্তার
  • ২০ জুলাই ২০২৬