ড্যাফোডিলে-এআই-হ্যাকাথনের-আয়োজন © টিডিসি ফটো
দেশের তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করতে এবং তা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে কাজে লাগানোর লক্ষ্যে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘এআই হ্যাকাথন ২০২৬’। আগামী ১১-১২ জুলাই ২০২৬ ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটিতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড এআই অ্যালায়েন্স’ (ডব্লিউএএ)-এর সঙ্গে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সদর দপ্তর অবস্থিত এই সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী নৈতিক এআই শাসন নিশ্চিত করতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প নেতাদের একত্রিত করতে কাজ করে। এবারের আয়োজনটি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, পরবর্তী বছর থেকে এটি দেশব্যাপী সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এশিয়ার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ওয়ার্ল্ড এআই অ্যালায়েন্সের সঙ্গে অংশীদারিত্ব স্থাপন করেছে, যা বাংলাদেশকে নৈতিক ও দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এই হ্যাকাথন শিক্ষার্থী, ডেভেলপার এবং উদ্ভাবকদের বাস্তবভিত্তিক এআই সমাধান তৈরিতে একত্রিত করবে, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মেধা তুলে ধরতে এবং ভবিষ্যৎ এআই নেতৃত্ব তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হ্যাকাথনের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাইদের সমন্বয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাস্তব জীবনের সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান বের করা। এটি একটি ৪৮ ঘণ্টার ইনটেনসিভ প্রতিযোগিতা, যেখানে নির্বাচিত দলগুলো তাদের প্রজেক্ট তৈরি ও উপস্থাপন করবে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রতিটি দলে ৩ জন শিক্ষার্থী এবং ১ জন মেন্টর থাকা বাধ্যতামূলক। ৩টি ভিন্ন ট্র্যাকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতার জন্য অংশগ্রহণকারীদের প্রথমে অনলাইনে নিবন্ধন করে কনসেপ্ট নোট জমা দিতে হবে এবং বিশেষজ্ঞ বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত পর্বের দল নির্বাচন করা হবে।
পুরস্কার হিসেবে থাকছে মোট ২ লক্ষ টাকা। এছাড়া বিজয়ী দলগুলো ওয়ার্ল্ড এআই অ্যালায়েন্সের মাধ্যমে তাদের উদ্ভাবনকে স্টার্টআপে রূপান্তরের জন্য ফান্ডিং, মেন্টরশিপ ও ইনকিউবেশন সুবিধা লাভের অনন্য সুযোগ পাবে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড এআই অ্যালায়েন্সের প্রেসিডেন্ট উজ্জ্বল রায়, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ নাদির বিন আলীসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় প্রধানগণ। বক্তারা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মকে কেবল প্রযুক্তি দক্ষ করে তোলাই নয়, বরং তাদের উদ্ভাবক ও সমস্যা সমাধানকারী হিসেবে গড়ে তুলে বাংলাদেশকে প্রযুক্তির বৈশ্বিক মানচিত্রে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।