সেমিনারে বক্তারা সেশন পরিচালনা করছেন © সংগৃহীত
প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সঠিক তথ্য, নিরাপদ যোগাযোগ এবং নির্ভুল ন্যাভিগেশন এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। এসব বিষয়কে সহজভাবে বোঝাতে নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এনইউবি)-এ শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করে।
একটি সেমিনারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল গ্লোবাল ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম বা জিএনএসএস-এর মাধ্যমে আয়নোস্ফিয়ার (পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি উচ্চস্তর) পর্যবেক্ষণ। অন্য সেমিনারে গুরুত্ব পায় আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)।
জিএনএসএস ও আয়নোস্ফিয়ার বিষয়ক সেমিনারে মূল বক্তব্য দেন মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, আয়নোস্ফিয়ার পৃথিবীর প্রায় ৬০ থেকে ১ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় বিস্তৃত এবং এখানকার মুক্ত ইলেকট্রন বেতার তরঙ্গের গতিপথ ও গতি প্রভাবিত করে। দিনে সূর্যের প্রভাবে ইলেকট্রনের ঘনত্ব বাড়ে, রাতে তা কমে যায়। এই পরিবর্তনের কারণে জিপিএস ও অন্যান্য ন্যাভিগেশন সিস্টেমে দেরি বা সংকেতের ওঠানামা হতে পারে। তিনি বিশেষভাবে Equatorial Ionization Anomaly বা ইআইএ (বিষুবরেখা ঘিরে ইলেকট্রন ঘনত্বের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি) বিষয়ে আলোচনা করেন, যা নিম্ন অক্ষাংশের দেশগুলোতে যোগাযোগ ও ন্যাভিগেশনকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
অন্য সেমিনারে ‘Multi-Agentic AI Augmented Cybersecurity’ বিষয়ে বক্তব্য দেন সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব প্রিন্স মুগরিন-এর সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ফরেনসিক কম্পিউটিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবদুর রহমান। তিনি বলেন, একাধিক এআই এজেন্ট একসঙ্গে কাজ করলে জ্বালানি, যোগাযোগ ও সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিস্টেমের সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এআই ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক পাঠ্যক্রম চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজুর রহমান। সেমিনারের একপর্যায়ে সম্মাননা স্মারক (ক্রেস্ট) দিয়ে মূল বক্তাদের সম্মান জানানো হয়। ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও ফটোসেশনের মাধ্যমে সেমিনারটি শেষ হয়।