প্রাথমিকে ঝরে পড়তে পারে ৩৩ লাখ শিক্ষার্থী

২৪ জুন ২০২২, ১০:৫৩ AM

প্রাথমিকের ক্লাসে ফেরেনি ৪৩ লাখ

প্রাথমিকের ক্লাসে ফেরেনি ৪৩ লাখ © ফাইল ফটো

করোনা মহামারিতে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকায় প্রাথমিকে ৩৩ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থী ঝরে পড়তে পারে বলে ব্র্যাকের করা এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। করোনা মহামারির ফলে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ ছিল দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এরপর গত ২ মার্চ শুরু হয় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের সশরীরে ক্লাস। কিন্তু বিদ্যালয় খোলার পর প্রথম মাসে বিদ্যালয়ে ফেরেনি প্রায় ৪৩ লাখ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং প্রাথমিকের ২৮ শতাংশ। 

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা-পরবর্তী সময়ে স্কুল খোলার প্রথম মাসে প্রাথমিকের প্রায় ৪২ লাখ ৮৭ হাজার ৯৭৯ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে ফেরেনি, যা প্রাথমিকের মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ২৩ দশমিক ২ শতাংশ। করোনাকালে নানা ঘাত-প্রতিঘাতের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ৩৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৮০ জন শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে না ফেরার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু না হওয়া, পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতি, শিক্ষায় অনাগ্রহ, শিক্ষাবিরতি কাটিয়ে ওঠার ভয়, মাদ্রাসাশিক্ষায় যুক্ত হওয়া এবং বিভিন্ন কাজে যুক্ত হয়ে পড়ার কারণে শিক্ষার্থীরা করোনা-পরবর্তী সময়ে আর বিদ্যালয়ে যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার পর শহর এলাকায় প্রাক্‌-প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে প্রাথমিকে কমেছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। প্রাক্‌-প্রাথমিকে মেয়েশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ কমেছে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ। অপর দিকে প্রাথমিকে ছেলেশিক্ষার্থী কমার হার বেশি দেখা গেছে। তবে করোনা-পরবর্তী সময়ে স্কুল খোলার পর শহর ও গ্রাম এলাকায় ছেলের চেয়ে মেয়েশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বেশি বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

অন্যদিকে এ সময়ের মধ্যে কওমি, হাফেজিয়া ও নুরানি মাদ্রাসায় ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছরের মধ্যে এসব মাদ্রাসায় ৫ বছরের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া ৬ থেকে ১০ বয়সী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ।

গবেষক সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, ২০১৬ সালে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাক্ষরতা-দক্ষতা ছিল আনুমানিক ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ, যা ২০২১ সালে ৩৪ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হবে বলে প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু গবেষণা ফলাফল অনুযায়ী এটি এখন ৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমে আনুমানিক ২৭ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। তিনি জানান, পড়তে, লিখতে ও সংখ্যা চিনতে পারা এবং সেগুলোর প্রয়োগ করতে পারে এমন শিক্ষার্থীদের দক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. মুহিবুর রহমান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় নানাবিধ সংকট আছে। করোনায় শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতি হয়েছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু যেভাবে বলা হচ্ছে, তেমন আতঙ্কিত হওয়ার মতো না। গ্রামের দিকে এটি বেশি হয়েছে। তবে আমরাসহ সবাই তা পুষিয়ে নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বলেন, ‘শিক্ষায় যে ক্ষতি হয়েছে, তা যদি আমরা উপলব্ধি না করি, তাহলে হয়তো আমরা একটা প্রজন্মকে হারাব। ব্র্যাক ব্রিজ স্কুলের যে ধারণা উদ্ভাবন করেছে, তার মাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষার ধারায় ফিরে আসছে। সরকার ২০৪১-এ স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলছে। শিক্ষায় জোর না দিলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।’

আন্তর্জাতিক ফিজিকস প্রতিযোগিতায় রুয়েটের স্বর্ণজয়
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
এসএসসি পরীক্ষায় ৮ মডেলের ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
সাভারে যাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজ…
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরি সিটি ব্যাংকে, নিয়োগ ঢাকাসহ ১৫ জেলায়
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
বাকৃবিতে বিজনেস আইডিয়া প্রতিযোগিতায় ‘টিম গ্রিন ডাই’ বিজয়ী
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের আহ্বান স্বাস্থ্য উপ…
  • ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9