প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আড়াইমাস পর আগামী ৯ জুলাই এ পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। বুধবার (১ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল জানতে পারবেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশের তাগিদ দেন। পরে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের যে কোনো দিন ফল প্রকাশ করা সম্ভব বলে জানানো হয়।
সেসময় মন্ত্রী নির্দিষ্ট তারিখ জানতে চান। তখন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার সম্ভাব্য দিন জানানো হয়। সেটি গৃহীত হয়।
আরেক কর্মকর্তা জানান, ফল দ্রুত পৌঁছানোর জন্য একটি বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ফল প্রকাশের পরপরই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত পরীক্ষার্থীদের বা তাদের অভিভাবকদের নিবন্ধিত মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা চলে যাবে। সরকারি এই দূরদর্শী পরিকল্পনার কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ফল জানতে কোনো ভোগান্তিতে পড়তে হবে না।
অনলাইনে ও মোবাইলে রেজাল্ট চেক করার নিয়ম
অনলাইন:
শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল লিংক ipemis.dpe.gov.bd/scholarship-results অথবা dpe.gov.bd-এ প্রবেশ করে তাদের রোল নম্বর, পরীক্ষার সাল (২০২৫/২০২৬) এবং উপজেলা সিলেক্ট করে সরাসরি রেজাল্ট শিট দেখতে ও পিডিএফ ডাউনলোড (Primary Scholarship Result PDF Download) করতে পারবেন।
মোবাইল এসএমএস:
যেকোনো মোবাইল অপারেটর থেকে নিচের ফরম্যাটে মেসেজ পাঠিয়ে ফলাফল জানতে পারবেন: DPE <স্পেস> Thana/Upazila Code <স্পেস> Roll Number <স্পেস> 2026 এবং পাঠিয়ে দিন 16222 নম্বরে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের বৃত্তি পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৪০ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে ৫ লাখ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রায় ৯০ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। এর মধ্যে মেধাবৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী। মেধাবৃত্তির মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ২৭ হাজার ৫০০ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য ৫ হাজার ৫০০টি বৃত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪১ হাজার ২৫০টি এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮ হাজার ২৫০টি বৃত্তি বরাদ্দ রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, বৃত্তি দেওয়া হবে দুটি ক্যাটাগরিতে— ট্যালেন্টপুল এবং সাধারণ বৃত্তি। উভয় ক্যাটাগরিতেই ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রী কোটা সংরক্ষিত থাকবে। ট্যালেন্টপুল বৃত্তি উপজেলা বা থানাভিত্তিক মেধাক্রম অনুযায়ী এবং সাধারণ বৃত্তি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
মেধাবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসিক ৩০০ টাকা করে ভাতা পাবে। সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ২২৫ টাকা এবং মাসিক ২২৫ টাকা করে ভাতা পাবে। আগামী বছর থেকে বৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।