প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় © সংগৃহীত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (২০২৫) ব্যাচে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রায় ১৪ হাজার প্রার্থী এখনও যোগদান করতে না পারায় হতাশা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগদান কার্যক্রম শুরুর দাবিতে সোমবার (১৩ এপ্রিল) তারা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা জানান, গত ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয় এবং এরপর তারা মেডিকেলসহ সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। তবে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো যোগদানের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এই দীর্ঘ বিলম্বের কারণে বহু প্রার্থী আর্থিক ও মানসিক সংকটে পড়েছেন। কেউ কেউ আগের চাকরি থেকে পদত্যাগ করে বর্তমানে বেকার অবস্থায় রয়েছেন। আবার অনেক প্রার্থীর বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প কোনো সরকারি চাকরির সুযোগও নেই।
প্রার্থীরা জানান, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তাদের যোগদান প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়া উদ্বেগজনক। এতে করে শুধু প্রার্থীরাই নয়, সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
স্মারকলিপেতে উল্লেখ, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর ও ফলপ্রসূ শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক অত্যন্ত জরুরি। তাই আমাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। বিষয়টি মানবিক ও জরুরি দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে সহকারী শিক্ষক (২০২৫) ব্যাচের সকল সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের দ্রুত যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আপনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি
এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফল গত ২১ জানুয়ারি প্রকাশ করা হয়। এতে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। জেলাভিত্তিকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের তালিকাও প্রকাশ করে অধিদপ্তর। পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে নির্ধারিত ছয়টি শর্ত অনুসারে মোট ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে শর্তসাপেক্ষে মোট ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়।
সূত্রের তথ্য, নিয়োগের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জনের দেয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ-প্রত্যয়ন ও ডোপটেস্ট রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দাখিল করার নির্দেশনা দেয়া হয়। আর নির্বাচিত প্রার্থীদের আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চের মধ্যে পরিচিতি প্রতিপাদন ও সব ডকুমেন্টস যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদ (সব সনদের মূলকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ৩ (তিন) কপি পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম (যথাযথভাবে পূরণকৃত), সিভিল সার্জনের দেয়া স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততার সনদ- প্রত্যয়ন এবং ডোপটেস্ট রিপোর্ট ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোটার সনদসহ) স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার জন্য বলা হয়।
এসব নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যক্রমও শেষ হয়। তবে এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় প্রার্থীরা যোগদান করতে পারছেন না।